Corona In West Bengal : মাধ্যমিকের পড়ুয়া লিখছে ‘সমুদ্দ’, ‘বিঞ্জান’, ‘সজ্ঞয়!’ করোনার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ছাত্রছাত্রীদের উপর? – problems of students have increased in many areas even after corona phase passed


স্নেহাশিস নিয়োগী
করোনা-পর্ব পেরোলেও স্কুলশিক্ষায় কি থেকে গিয়েছে তার গভীর ক্ষত! বহু স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই পর্যবেক্ষণ – পড়ুয়ারা আর আগের মতো স্কুল-মুখী নয়। পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় চিন্তা বাড়াচ্ছে শিক্ষকদের। করোনায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর বছর দেড়েক হলো স্কুল খুলেছে। কিন্তু বহু ছাত্রছাত্রীই স্কুলে আসতে চাইছে না। একই সঙ্গে, শেখার আগ্রহ ও পড়া আত্মস্থ করার ক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের সমস্যায় বেড়েছে উদ্বেগ। এমনকী, স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা এতটাই বেড়েছে যে নবম-দশমের পড়ুয়ারা প্রজেক্ট জমা দিতেও মা-বাবাকে পাঠাচ্ছে স্কুলে। পরীক্ষাতেও ছাপ ফেলছে প্রস্তুতির খামতি। এমনকী, পরীক্ষার হলে এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চিন্তা বাড়াচ্ছে।

Birbhum News : নিত্যদিন দেরিতে স্কুলে ঢোকা! শিক্ষকদের বাইরে দাঁড় করিয়েই গেটে তালা ঝোলালেন অভিভাবকরা
সমস্যাটা কোথায়?
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা কুহেলি মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অনেকে এখনও শুদ্ধ বাক্য লিখতে পারছে না!’ হুগলি ব্রাঞ্চ গভর্নমেন্ট স্কুলের বাংলার শিক্ষক রবিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় জানান, উঁচু ক্লাসের বহু পড়ুয়া সমুদ্রকে লিখছে ‘সমুদ্দ’। বৃথাকে লিখছে ‘বিথা’। সঞ্জয়কে লিখছে ‘সজ্ঞয়’। আবার বিজ্ঞানকে লিখছে ‘বিঞ্জয়’। আয়োজনের বানান লিখছে ‘আযোযন!’ হিন্দু স্কুলের গণিতের শিক্ষক অশোক জানার মন্তব্য, ‘সিক্স থেকে ইংরেজিতে ডিজিট লিখতে হয় পড়ুয়াদের। দেখা যাচ্ছে, চারটে ইংরেজি আর দুটো সংখ্যা বাংলায় লিখেছে।’ শিবপুরের শ্রীমৎ স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘পড়াশোনার অভ্যাসটা একেবারেই কমে গিয়েছে। গুটিকয় পড়ুয়া ছাড়া অন্যদের নিয়মিত স্কুলে আসার অভ্যাসও কমে গিয়েছে। এ জন্য কোভিডের ভূমিকা থাকতে পারে।’

WB School Teacher : শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে! নিন্দার ঝড় রাজবল্লভপুর স্কুলে
সমাধানের পথ কী?
ছাত্রছাত্রীদের দেদার বানান ভুল ও অসম্পূর্ণ বাক্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এর নেপথ্যে কোভিড তো বটেই, আর কী কারণ দায়ী, তা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামহল। উত্তরপাড়া গভর্নমেন্ট স্কুলের জীববিদ্যার শিক্ষক সৌগত বসু বলেন, ‘অনলাইনে পড়াশোনা এবং দীর্ঘ সময় লেখালিখির অনভ্যাসে এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বাড়িতে বাবা-মাকে খবরের কাগজ বা বই পড়তে হবে, তা শুনে লেখা অভ্যাস করবে পড়ুয়ারা। পরে তা মিলিয়ে দেখে সংশোধন করতে হবে।’

Paschim Medinipur News : শিক্ষাঙ্গন নাকি মৃত্যুফাঁদ! বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে ভেঙে পড়ছে চাঙড়, আতঙ্কে পড়ুয়ারা
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা
উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ চাতরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণাংশু মিশ্র বলেন, ‘পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও অনেক ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের খামতি ঢাকার চেষ্টা করছেন। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় আমরা অভিভাবকদের ডেকে পড়ুয়াদের ভুলভ্রান্তি দেখিয়ে দেব। ফাইনাল পরীক্ষার আগেও কথা বলব।’ সাখাওয়াতের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া সিংহ মহাপাত্রের কথায়, ‘আমরা অভিভাবকদের কাছে দ্বিতীয় সামেটিভের উত্তরপত্র দেব। পাশাপাশি খামতি পূরণে স্কুলের আর কী করণীয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ চাইব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *