Chandrayaan 3 Landing : ঘরের ছেলেদের সাফল্যে মিষ্টি বিলি, উচ্ছ্বাস বঙ্গে – after the success of the chandrayaan 3 campaign celebrations are going on in districts across bengal


এই সময়: ইসরো’র চন্দ্রাভিযানের সাফল্যে গর্বিত বাংলা। এই সাফল্যে বাংলার কৃতী-সন্তানদের অবদানও নেহাত কম নয়। জয়োল্লাসে মেতে উঠেছেন তাই অনেকেই। চন্দ্রযান-৩ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছ’জন ছাত্র–কৌশিক নাগ, নিরঞ্জন কুমার, সঞ্জয় দলুই, অমরনাথ নন্দী, সৌমিক সরখেল ও মুকুন্দকুমার ঠাকুর। তাঁদের কুর্নিশ জানাতে বৃহস্পতিবার কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সেলিব্রেশনের ব্যবস্থা করেছিলেন অধ্যাপকরা। প্রায় দু’হাজার লাড্ডু বিলি হয়।

Chandrayaan 3 Update : ‘আমরা পেরেছি মা!’ চন্দ্রজয়ের পর ফোন নীলাদ্রির, চোখে জল পরিবারের
তার পর বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা কৌশিকের বাড়িতে যান প্রিন্সিপাল অমিতাভ রায়। কৌশিকের মা সোনালী নাগকে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষকরা। আবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে সংবর্ধনা জানাতে ফুল-মিষ্টি নিয়ে হাজির হন লায়ন্স ক্লাব অফ জলপাইগুড়ি জেনেসিসের সদস্যরা। সোনালীদেবী ‘এই সময়’কে বলেন, ‘আজ কলেজের প্রিন্সিপাল বাড়িতে এসেছিলেন। খুব ভালো লাগছে। আমি চাই কলেজের সব ছাত্রছাত্রী যেন এ ভাবেই কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেন।’ প্রিন্সিপাল অমিতাভ রায় বলেন, ‘মিশন চন্দ্রাভিযানে আমাদের কলেজের ৬ ছাত্রের সাফল্যে আমরাও গর্বিত। এই সাফল্য বর্তমান ছাত্রদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’

Chandrayaan 3 Rover Pragyan Update: চাঁদ মামার বাড়িতে ঘুরছে রোভার প্রজ্ঞান, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাত্রসায়েরের কৃশাণু
চন্দ্রযানের সফল উৎক্ষেপণের পরই আলোচনার বৃত্তে চলে এসেছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার মছলন্দপুরের নকপুল গ্রাম। এখানেই বাড়ি ইসরো’র মহাকাশবিজ্ঞানী নীলাদ্রি মৈত্রের। চন্দ্রযান-৩’এর বডি এবং ক্যামেরার টেকনিক্যাল বিষয়গুলি দেখভাল করেছেন নীলাদ্রিই। তাঁর সাফল্যে মেতেছেন নকপুলের বাসিন্দারা। চলছে মিষ্টি বিতরণ। নীলাদ্রির বাবা নির্মল মৈত্র ব্যবসায়ী। মা কৃষ্ণা সাধারণ বধূ। বাড়ির একমাত্র ছেলে নীলাদ্রির পড়াশোনা শুরু নকপুল নিম্নবুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা নকপুল স্বামীজি সেবা-সঙ্ঘে। এর পর ভর্তি হন মছলন্দপুরের রাজভল্লভপুর হাইস্কুলে। ২০১০-এ ওই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে একই সঙ্গে খড়্গপুর আইআইটি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স পান। পরে ইসরো’য় যোগ দেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ থেকেও ডাক এসেছিল। কিন্তু দেশের স্বার্থে ইসরো’র চাকরিই বেছে নেন।

Chandrayaan 3 Live : গৌরবের কর্মযজ্ঞে ইসরোয় প্রাণপাত দুই ছেলের, সকাল থেকেই ঠাকুরঘরে বাবা-মা
ইসরো’র আর এক বিজ্ঞানী বরাহনগর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী সায়ন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে উচ্ছ্বসিত রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষও। চন্দ্রাভিযানে যে ২৫ জন বাঙালি যুক্ত, তাঁদের অন্যতম উদয়নারায়ণপুরের অমিত মাজিও। হাওড়ার বন্যাপ্রবণ উদয়নারায়ণপুরের খিলা গ্রামে তাঁর শৈশব কেটেছে। তাঁর সাফল্যে পরিবারের লোকজন, গ্রামবাসী–সবাই আনন্দে মাতোয়ারা। বসিরহাটের নৈহাটি গ্রামের মানস সরকার ইসরো’র‌ টেলিম্যাট্রিক ট্র্যাকিং এবং কমান্ড নেটওয়ার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাঁর জন্যেও গর্বিত গোটা গ্রাম। হাওড়ার শিবপুরের শেখপাড়ার ছেলে ইনসা ইরাজও ইসরোর’র অন্যতম বিজ্ঞানী হিসেবে যুক্ত থেকেছেন চন্দ্রযান-৩’এর সঙ্গে। ইরাজের মা নিলুফা বেগম বলেন, ‘এই সাফল্য শুধু আমার ছেলের নয়, ইসরো’র সব বিজ্ঞানীর। ওরা সবাই আমার সন্তানসম।’

Chandrayaan-3 Mission : বসিরহাট থেকে বাঁকুড়া, চন্দ্রযান ৩-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বঙ্গসন্তানরা
ল্যান্ডার বিক্রম-এর নেভিগেশন ক্যামেরার প্রোজেক্ট ম্যানেজার জয়ন্ত লাহার বাড়ি হুগলির উত্তরপাড়ায়। চন্দ্রযান-৩’এর সফল অবতরণের পর বুধবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হন পাড়া-প্রতেবেশীরা। হুগলিরই গুড়াপের মাজিনান গ্রামের একই পরিবারের দুই সন্তান চন্দ্রকান্ত কুমার ও শশীকান্ত মহাকাশ বিজ্ঞানী হিসেবে ইসরো’য় কর্মরত। চন্দ্রযান-৩’এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ না থাকলেও চন্দ্রযান-২’এর যোগাযোগ অ্যান্টেনার ডিজাইন তৈরির দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রকান্তই। চন্দ্রযান-৩’এর সাফল্যেও গুড়াপের মানুষ গর্বিত। মিরিকের ওকাই চা-বাগানের খড়কাগাঁওয়ের নিরুপম শর্মাও চন্দ্রাভিযানের অন্যতম অংশীদার। নিরুপমের বাবা বিশ্বকবি শর্মা বলেন, ‘কাল চাঁদে চন্দ্রযান-৩ সফল ভাবে অবতরণের পরেই ছেলের ফোন এসেছিল। বলল, ‘দেখেছো? আমরা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি’।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *