সরকারিভাবে গত কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুলিশের আওতায় এসেছে ভাঙড়। এই প্রসঙ্গে এক নির্দেশিকাও প্রকাশিত হয় নবান্ন থেকে। সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়ে, কলকাতা পুলিশের দশম ডিভিশন ভাঙড় ডিভিশন। সেই ডিভিশনের আওতায় থাকছে ৮টি থানা। সেই থানাগুলি হল হাতিশালা, পোলেরহাট, উত্তর কাশীপুর, বিজয়গঞ্জ বাজার, মাধবপুর, চন্দনেশ্বর, বোদরা এবং ভাঙড়। এছাড়াও ওই ডিভিশনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে তৈরি হচ্ছে নয়া ভাঙড় ট্রাফিক গার্ড।
ফোর্স নিয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ডিভিশনে ২ জন ডিসি পদমর্যাদা অফিসারের আওতায় থাকছেন ৪ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার। পাশাপাশি প্রত্যেক থানায় থাকছেন OC, অতিরিক্ত ওসি, ১০ জন SI, ৪ জন মহিলা সাব ইন্সপেক্টর, ২ জন সার্জেন্ট, ১২ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, ৩ জন মহিলা ASI, ৮০ জন কনস্টেবল, ৩০ জন মহিলা কনস্টেবল ও ১২ জন গাড়ি চালক। পাশাপাশি ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডে থাকছেন ২ জন ইন্সপেক্টর, ১৫ জন সার্জেন্ট, ১৫ জন ASI ও ১০০ জন কনস্টেবল। এদিকে ইস্ট ডিভিশনের আওতায় থাকলেও কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স বা কেএলসি থানাতেও এই একই সংখ্যক পুলিশ থাকছে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের জন্য পৃথকভাবে ৯৩ জন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের জন্য ৩৬ জন পুলিশকর্মী এবং আধিকারিক নিয়োগ করছে লালবাজার।
লালবাজার সূত্রে খবর, এর জন্য ৪ জন ইন্সপেক্টরকে আটটি থানার পরিকাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামোগত কাজ শেষ হলেই থানাগুলি উদ্বোধন করা হবে বলে খবর। প্রসঙ্গত, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব থেকে ভোটের পরবর্তী সময় পর্যন্ত বারেবারেই উত্তপ্ত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। ঘটেছে বোমাবাজি, চলেছে গুলি, ধরেছে রক্ত, ঘটেছে মৃত্যু। বারেবারে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রাজনৈতিক তৃণমূল ও আইএসএফ। অশান্তির জেরে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বুঝে ভাঙড়কে কলকাতা পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
