Calcutta High Court : স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়েন রূপান্তরকামী, অপহরণের দায়মুক্ত তৃতীয় লিঙ্গের ২ – calcutta high court of jalpaiguri circuit bench dismissed the kidnapping case


এই সময়: পরিবারের লোকজনের নানা জুলুম ও অত্যাচারে বাড়ি থেকে এক রূপান্তরকামীর উধাও হওয়ার পিছনে অন্য কারও হাত নেই বলে সাফ জানিয়ে দিল আদালত। যার ফলে স্বস্তি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের দু’জন। যাঁদের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে চলে যাওয়া ওই রূপান্তরকামীর পরিবারের লোকজন অপহরণের মামলা রুজু করেছিলেন। সেই মামলাই খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ।

ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি এলাকার। যাঁকে নিয়ে এত ঘটনা, শারীরিক ভাবে তিনি পুরুষ। কিন্তু নিজেকে তিনি এক জন নারী ভাবতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তাঁর আচার-আচরণও এক জন নারীর মতো। কিন্তু বাড়ির ছেলের এই অবস্থান মেনে নিতে নারাজ তাঁর পরিবার। ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চলে ঝাড়ফুঁক, জলপড়া, তেলপড়ার মতো টোটকা।
Calcutta High Court : সন্তানদের জীবন ‘দুর্বিসহ’, কলহ মেটান: দম্পতিকে কোর্ট
জোর করে খাওয়ানো হয় নানা অখাদ্য। বাড়ির লোকজনের বিশ্বাস, তাতেই ‘পথে আসবে’ সব কিছু। এই ধরনের মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা দিনের পর দিন সহ্য করার পর হঠাৎই একদিন পরিবারের সবার চোখ এড়িয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের এক জন মনে করা ওই রূপান্তরকামী।

কিন্তু তাতে পরিবারের রোষ গিয়ে পড়ে তৃতীয় লিঙ্গের অন্য কয়েক জনের উপর। তৃতীয় লিঙ্গের দু’জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয় মেটেলি থানায়। প্রায় এক বছর ধরে পুলিশি ধরপাকড়-আইনি লড়াইয়ের পর্ব পেরিয়ে শেষমেশ স্বস্তি মিলল ওই দু’জনের। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ অপহরণের ওই মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের নির্দেশ, ওই নাগরিকের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পিছনে অন্য কারও কোনও হাত নেই। কারণ, তিনি কী কারণে বাড়ি ছেড়েছেন, সেটা আদালতের কাছে স্পষ্ট। আদালত সূত্রের খবর, মেটেলির ওই রূপান্তরকামীর নারীর মতো আচরণ নিয়ে বরাবর আপত্তি ছিল তাঁর পরিবারের। গত বছর সেপ্টেম্বরে একদিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। তার দিন কয়েক পরেই পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয় মেটেলি থানায়।

Calcutta High Court: CCTV ফুটেজ আনার পরামর্শ পুলিশের! ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের বাড়ির পরিচারিকা নিগ্রহ মামলায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট
যদিও ওই রূপান্তরকামী তাঁর স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কিছু কারণ লিখে ই-মেল করেন মেটেলি থানায়। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও কলকাতার বাসিন্দা তৃতীয় লিঙ্গের দু’জনকে পুলিশ টানাহ্যাঁচড়া শুরু করে। জেরা করার জন্য তাঁদের থানায় তলব করা হয়। এক সময়ে আদালতের হস্তক্ষেপে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এফআইআর খারিজের দাবিতে তৃতীয় লিঙ্গের ওই দু’জন হাইকোর্টে মামলা করেন।

মামলায় রূপান্তরকামীর আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পরিবার পুরুষ হিসেবেই চিহ্নিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। টানা হেনস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অত্যাচার সহ্য করতে না-পেরে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার যাবতীয় নথি নিয়ে তিনি রাজ্য ছাড়েন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুতে একটি সংস্থায় কর্মরত।

Murshidabad News : বাংলাতেও সীমার ছায়া! স্বামী-৩ সন্তানকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর ৭ মাস পর উদ্ধার গৃহবধূ
অভিযুক্ত দু’জনের আইনজীবী শ্রীময়ী মুখোপাধ্যায় বলেন, রূপান্তরকামী এক জন সাবালক, তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন। তার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় লিঙ্গের দু’জনকে পুলিশ হেনস্থা করছে বাড়ির লোকদের অভিযোগের ভিত্তিতে। এর পরেই হাইকোর্ট ওই এফআইআর খারিজের নির্দেশ দেয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *