বিধবা-বার্ধক্য ভাতা প্রদানে গরমিল! অর্থ ফেরত চেয়ে নোটিশ উপভোক্তাদের, অবাক কাণ্ড মালদায়


বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ Malda জেলার কলিয়াচক ১ নং ব্লকে। এমনকি, অনিয়ম ঢাকতে উপভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরতের নোটিশ টাঙানো হয়েছে ব্লক অফিসে। যা দেখে রীতিমতো হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।

Duare Sarkar : ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ
সরকারি ভাতা নিয়ে ঠিক কী ঘটেছে?

কালিয়াচক এক নম্বর ব্লক প্রশাসন ও সমাজ কল্যাণ বিভাগের সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের সময় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি থেকে ঢালাও নাম পাঠানো হয়েছিল। সে সময় নথিপত্র বয়স সহ কোনও তথ্য যাচাই করা হয়নি। একজন উপভোক্তাকেই বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, মানবিক ভাতা দেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারি নিয়ম রয়েছে যে কোনও একজন উপভোক্তা একটি ভাতা পাবেন। সেক্ষেত্রে এখানে যে মহিলা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, আবার সেই মহিলাই বার্ধক্য ভাতা পেয়েছেন।

Duare Sarkar Camp : ৬০ হলেই সবাই পাবেন বার্ধক্যভাতা, শুরু হচ্ছে ‘দুয়ারে সরকার’-এর সপ্তম পর্যায়
কত টাকার গরমিল?

একাধিক উপভোক্তাকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার ফলে সব মিলিয়ে ‌প্রায় ৭ লাখ টাকা গায়েব কালিয়াচক এক নম্বর ব্লক তহবিল থেকে। বিডিওর নোটিশ ইতিমধ্যেই উপভোক্তারা পেয়েছেন। সেই নোটিশ‌-এ উল্লেখ আছে বাড়তি ১৯ হাজার টাকা সাত দিনের মধ্যে বিডিও অফিসে ফেরত দিতে হবে। আর বিডিও নোটিশ হাতে পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন উপভোক্তারা।

Duare Sarkar : দুয়ারে সরকারে ফুচকা বিক্রেতারাও করতে পারেন ঋণের জন্য আবেদন, কী জানালেন মন্ত্রী?
উপভোক্তারা কী জানাচ্ছেন?

কালিয়াচক এক নম্বর ব্লকের মজমপুর, যদুপুর, শ্রীরামপুর, আলিপুর, সুজাপুর ,জালুয়া বাধাল, জালালপুর সহ আরো বেশ কিছু গ্রামের প্রায় ৩২৯ জন উপভোক্তাদের বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উপভোক্তা বয়স্ক মহিলারা জানিয়েছেন, এত টাকা কোথায় পাবে যে তাঁরা ফেরত দিবে সরকারকে। তাঁদেরকে যখন টাকা দিয়েছিল তখন তো তাঁদেরকে কিছু বলেননি। বরঞ্চ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে বাড়তি টাকা সরকার যখন দিচ্ছে তাহলে নিতে ক্ষতি কী? কিন্তু আজকে এতগুলো টাকা ফেরত তাঁরা কী ভাবে দেবেন এই নিয়ে মাথায় হাত পড়েছে অনেকের।

Duare Sarkar : দুয়ারে সরকারে মিলছে না পরিষেবা, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

বিরোধীরা কী বলছে?

দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ী জানান, এই গাফিলতি ভিডিও এবং তার কর্মীদের। নথিপত্র যাচাই না করে কি করে টাকা দেয়া হলো। আবার সেই টাকা আজকে দুঃস্থ মহিলাদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে। এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

জেলা পরিষদের কী বক্তব্য?

এই বিষয়ে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ জানান, এই খবরটা আমি পেয়েছি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন মহিলা যিনি বিধবা রয়েছেন তিনি শুধু বিধবাভা ভাতায় পাবেন অন্য ভাতা পাবেন না। সে ক্ষেত্রে এখানে একজন মহিলা দুটো তিনটি করে ভাতা পেয়েছেন সেটা সঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে কিভাবে বিষয়টিকে দেখা যায় সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিরোধীদের কাজই হচ্ছে বিরোধিতা করা। নিয়ম যা রয়েছে সে বিষয়ে ব্লক প্রশাসন দেখবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া। যদিও কালিয়াচক এক ব্লকের বিডিও সেলিম হাবিব সরকার এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কিছু বলতে চাননি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *