অতীতে কংগ্রেসের সভায় বক্তব্য রাখার একটি ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে কৌস্তব লেখেন, ‘পুকুর নদী বলতে পারব না।
চোর কে সাধু বলতে পারব না। দলের সাধারণ কর্মীদের চোখের জলের কারণ হতে পারবো না। দিল্লি দেখিয়ে তৃণমুলের প্রতি সুর নরম করতে পারব না। তাই হয়তো দল মনে করেছে আমাকে মুখপাত্র হিসেবে রাখা যাবে না। আমাকে ও আমার পরিবারকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করতে হবে।’
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের পালটা দিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ব্যক্তিগত’ আক্রমণ করে গ্রেফতারির মুখে পড়েন এই কংগ্রেস নেতা। দলীয় নেতৃত্বকে এদিন সেই ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা। কৌস্তভ আরও লেখেন, ‘শুধু মনে করিয়ে দি, মমতা বন্দোপাধ্যায় যেদিন ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেছিলেন, প্রতিবাদ করে পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়েছিলাম একমাত্র আমি ও আমার পরিবার।’
দলীয় পদ থেকে অপসারণ করেও তাঁকে সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না বলে দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সদ্য প্রাক্তন মুখপাত্র। কার্যত কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ছেন কৌস্তভ। কংগ্রেস নেতার মতে, ‘আমার শক্তি কোনও পদ নয়, আমার শক্তি আমার দলের সাধারণ কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা তৃণমূল বিরোধী মানুষ। পদ কেড়ে নিতে পারেন, আমার শিরদাঁড়া কেড়ে নিতে পারবেন? দল থেকে তাড়িয়ে দিতে পারেন, দলের সাধারণ কর্মী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা তৃণমূল বিরোধী মানুষ মন থেকে তাড়াতে পারবেন?’
সম্প্রতি প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে কংগ্রেসের বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। নাম না করে তাঁকে ‘বিপ্লবী’ বলে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। সম্প্রতি কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের সামনেই বিবাদে জড়ান কৌস্তভ অনুগামী ও অধীর গোষ্ঠী। তাঁকে মারধর ও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কৌস্তব। তারপরই দলীয় মুখপাত্রের পদ থেকে তাঁকে অপসারণ করে কংগ্রেস। শুক্রবার কংগ্রেস নেতার এই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ফের নতুন করে শুরু হল চর্চা।

