Aadhaar Biometric Fraud : রেশনে ই-পস মেশিনে আঙুল ঠেকাতেও ভয় – fingerprint theft case many people are afraid to stick fingers in ration biometric machines


তাপস প্রামাণিক

বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করে গোটা দেশে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনা বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। রেশনের বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুল ঠেকাতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। তার ফলে মহাফাঁপরে রেশন ডিলাররা। এ দিকে রেশনে বায়োমেট্রিকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। কাউকে রেশন-সামগ্রী দেওয়ার আগে ই-পস মেশিনে গ্রাহকের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখাই নিয়ম। তা না-হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে রেশন ডিলারদের।

আবার রেশন গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ মেলাতে গিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে কারও টাকা গায়েব হয়ে গেলে তার দায় চাপবে ডিলারদের উপরেই। সে ক্ষেত্রেও ডিলাররা আক্রমণের শিকার হতে পারেন। ফলে বায়োমেট্রিকের ব্যবহার নিয়ে উভয়সঙ্কটে রেশন ডিলাররা। এই সমস্যার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে চিঠি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন।

Aadhar Card Fraud Case : বায়োমেট্রিক ক্লোন করে অ্যাকউন্ট সাফ! কী ভাবে ঠেকাবেন Aadhar প্রতারণা, জানাল কলকাতা পুলিশ
গ্রাহকদের নিরাপত্তায় রেশনের বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে তারা। রাজ্য খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে সারা রাজ্যে প্রায় সাড়ে আট কোটি রেশন গ্রাহক রয়েছেন। বড় অংশ গ্রামের দরিদ্র মানুষ। রেশনের বায়োমেট্রিক মেশিন থেকে কোনও জালিয়াতি ঘটলে রাজ্যের বিরাট অংশের মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়বে। তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন খাদ্য দফতরের কর্তারাও।

Aadhaar Biometric Lock Fraud : ‘বায়োমেট্রিক লক’-এর নামেও Aadhaar প্রতারণা! নতুন ফাঁদের হদিশ
রাজ্যের খাদ্যসচিব পারভেজ সিদ্দিকির বক্তব্য, রেশনের বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। আধারের বিষয়টিও তারাই দেখে। কিছু করার হলে কেন্দ্রই করবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্যের কিছু করণীয় নেই। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘বায়োমেট্রিকের জন্যে রেশন দোকানে যে ই-পস মেশিন ব্যবহার করা হয় তাতে বাইরের কোনও অ্যাপ ব্যবহার হয় না। ফলে জালিয়াতির সম্ভাবনা কম।’

সর্বহারা হওয়ার আগে আধারটা চট করে লক করে নিন, পদ্ধতি রইল
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর বক্তব্য, ‘বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করে অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করে নেওয়া হচ্ছে। তাতে লোকের মনে ভয় ঢুকেছে। অনেকে রেশন তুলতে এসে মেশিনে আঙুল ঠেকাতে চাইছেন না। কিন্তু আমাদের বলে দেওয়া হয়েছে, বায়োমেট্রিক ছাড়া কাউকে রেশন দেওয়া যাবে। রেশন দোকানে আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর যদি কারও টাকা গায়েব হয় তখন লোকে ডিলারকেই সন্দেহ করবেন। ফলে ডিলারদের শাঁখের করাত অবস্থা।’

Cyber Crime : সিপিএম নেতার অ্যাকাউন্টে হানা, হাতিয়ার সেই আধার বায়োমেট্রিক
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তথাগত দত্ত জানাচ্ছেন, রেশনের বায়োমেট্রিক মেশিনের তথ্য যদি অন্যের কাছে চলে যায় তা হলে সেটা কেউ অপব্যবহার করতেই পারে। কলকাতার বিভিন্ন সাইবার থানায় এই ধরনের প্রচুর অভিযোগ আসছেও। তাঁর পরামর্শ, ‘আধারের যে সাইট আছে, তাতে ঢুকে বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ফর ফিনান্সিয়াল ট্রানজকশন নামে যে অপশন রয়েছে, সেটা লক করে দিলে এই সমস্যা আর হবে না। রেশন গ্রাহকরা চাইলে বাড়ির কাছের কোনও সিটিজেন সার্ভিস সেন্টারে গিয়েও এটা করিয়ে নিতে পারেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *