নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য, তখন এই ঘটনায় গোটা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর এই নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। শাসকদের দাবি, ওই শিক্ষক বিজেপির নেতা। এমনকী চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি অনেকের থেকে টাকা তুলেছেন। টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। যদিও ধৃত শিক্ষক তাঁদের দলের কেউ নয় বলে দাবি করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ চক্রান্ত করে ওই শিক্ষককে ফাঁসানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া বলেন, ‘সুকুমার দাস নামে এক স্কুল শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শুনলাম। তিনি সিতাই হাইস্কুলে কর্মরত। পুলিশ ওকরাবাড়ি থেকে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে বলে শুনেছি। চাকরির নামে অনেক যুবকের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যে চাকরি দেওয়ার নামে যে মানুষের থেকে যে টাকা তোলে সে একজন প্রতারক। সে যদি আমাদের দলেওর হত, আমরা সমর্থন করতাম না।’
কোচবিহার জেলা বিজেপির নেতা দীপক রায় বলেন, ‘ওই শিক্ষক বিজেপির দলীয় কোনও পদে নেই বলেই আমি জানি। বিধায়কের অঙ্গুলিহেলনে এই কাজ করা হয়েছে। চক্র ফাঁসানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক, এটাই আমাদের দাবি।’
নিয়োগ দুর্নীতির রাজ্যের অন্যতম বড় ইস্যু। প্রাইমারি টেট ও এসএসসিতে অযোগ্যদের পাশ করিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায়ে অনেক অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এখনও অবধি এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি-সিবিআইয়রে মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা গুলি। একাধিক নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলা কোনদিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।
