গ্রামে ঢুকে হাতিরা যাতে দাদাগিরি করতে না পারে তার জন্য কড়া পাহারায় থাকবেন বনকর্মীরা। পুজোতেও থাকবে বাড়তি নজরদারি। হাতিদের কারণেই শারোদৎসবে ছুটি বাতিল করা হয়েছে বনাধিকারিক থেকে বনকর্মীদের। মুখ্য বনপাল (কেন্দ্রীয় চক্র) এস কুলানডাইভেল বলেন, ‘মানুষের সুরক্ষা আগে। তার পর অন্য কিছু। তাই ছুটির কোনও প্রশ্ন নেই। সাধারণ মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, গ্রামবাসী যাতে পুজোর আনন্দ ঠিকমতো উপভোগ করতে পারেন তার জন্য হাতিদের ম্যানেজ করতে আমাদের সবরকম চেষ্টা জারি থাকবে।’
কয়েকদিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরের রূপনারায়ণ ও বাঁকুড়ার পাঞ্চেত ডিভিশনের সীমানায় ঘোরাফেরা করছিল হাতির দলটি। এদিন ভোরে দলটি হাজির হয় বাঁকাদহ রেঞ্জের আস্থাশোলের জঙ্গলে। বন দফতরের অনুমান, দু’এক দিনের মধ্যেই চেনাপথ ধরে দ্বারকেশ্বর টপকে তারা উত্তর বাঁকুড়ায় ঢুকে পড়বে। তার পর ঘাঁটি গাড়বে বড়জোড়ার জঙ্গলে। হাতিদের যাতে কেউ বিরক্ত না করে সেই বার্তাও দিয়েছে বন দফতর।
দাঁতালদের ম্যানেজ করতে বুধবার বেলিয়াতোড়ে বন দফতরের রেস্ট হাউসে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় চক্রের মুখ্য বনপাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাম্মানিক বন্যপ্রাণ সংরক্ষক মথুর কাপড়ি, বাঁকুড়া উত্তর, দক্ষিণ ও পাঞ্চেত বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমাম, ই বিজয়কুমার, অঞ্জন গুহ। বৈঠকে যোগ দেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি ও বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসক সুশান্তকুমার ভক্ত।
এই মুহূর্তে মাঠে রয়েছে আমন ধান। তার উপর সামনেই দুর্গাপুজো। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়জোড়ায় থাকলে সেখানকার পাবয়ার জঙ্গলেই হাতিগুলিকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হবে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারির সঙ্গে জঙ্গলপথে চক্কর দেবে বন দপ্তরের গাড়ি। এলিফ্যান্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ঐরাবত (হাতি তাড়ানোর জন্য বিশেষ সাঁজোয়া গাড়ি) থাকবে জঙ্গলের রাস্তায়।
বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘হাতিদের ম্যানেজ করতে রাত-দিন নজরদারি থাকবে। আশা করছি পুজোয় কোনও সমস্যা হবে না। ভয়ের কোনও কারণ নেই। মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।’
বিগত বছরেও পুজোর সময়ে উত্তর বাঁকুড়ায় ঘাঁটি গেড়েছিল হাতির দল। সেবারও শক্ত হাতে পরিস্থিতি ম্যানেজ করেছিল বন দপ্তর। পুজোর আনন্দ মাটি হয়নি মানুষের। এবারও বন দফতরের সামনে রয়েছে সেই চ্যালেঞ্জ।
