Jadavpur University : তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সায় দিল অ্যান্টি র‍্যাগিং স্কোয়ার্ড – jadavpur university anti ragging squad approved report of the inquiry committee


এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলে র‍্যাগিং ও ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় যুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কড়া সাজার পথেই এগোল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি র‍্যাগিং স্কোয়াড। সূত্রের খবর, বুধবার বৈঠকে স্কোয়াডের বেশির ভাগ সদস্যই সহমত হয়েছেন অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির কড়া সাজার সুপারিশে। এর ফলে চার পড়ুয়া, যাঁরা সরাসরি র‍্যাগিং ও ছাত্রমৃত্যুতে জড়িত বলে তদন্ত কমিটির বক্তব্য, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সুপারিশেই সিলমোহর দিয়েছে স্কোয়াড।

আরও অন্তত ৩১ জন পড়ুয়া, যাঁরা র‍্যাগিংয়ে জড়িত ছিলেন অথবা ছাত্রমৃত্যুর পর প্রমাণ লোপাটে অংশ নিয়েছিলেন বলে কমিটি রিপোর্ট দিয়েছিল–তাঁদের এক বা একাধিক সেমেস্টারে সাসপেন্ড করার পক্ষেই রায় দিয়েছেন স্কোয়াডের বেশির ভাগ সদস্য। গত ৯ অগস্ট রাতে যাদবপুরের মেন হস্টেলে র‍্যাগিং, যৌন হেনস্থার পর ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তার ঠিক পরেই যাদবপুর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তৈরি করেন।

Ragging Case : সাড়ে ১২ ঘণ্টা ধরে মিটিং, র‍্যাগিং-রোধে সিদ্ধান্ত হল কই? প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ
সেই কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর বিবরণ। একাধিক পড়ুয়া ও প্রাক্তনীর বিরুদ্ধে কড়া সাজার সুপারিশ করে কমিটি। সেই শাস্তির সুপারিশ নিয়েই আলোচনায় বসেছিল স্কোয়াড। সূত্রের দাবি, বৈঠকের পর পাঁচ পড়ুয়াকে চার সেমেস্টার সাসপেন্ড করা, ১১ জনকে দু’টি সেমেস্টার সাসপেন্ড এবং ১৫ জনকে একটি সেমেস্টার বহিষ্কারের সুপারিশে সহমত হয়েছে স্কোয়াড। তবে কমিটির আরও একটি সুপারিশ নিয়ে রিভিউয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে স্কোয়াড।

মেন হস্টেলে র‍্যাগিংয়ের ভরকেন্দ্র বলে পরিচিত এ-২ ব্লকের ৯৫ জন আবাসিককে হস্টেল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছিল কমিটি। স্কোয়াড মনে করছে, গণহারে শাস্তির এই সুপারিশ নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন। তবে যাঁদের সঙ্গে র‍্যাগিংয়ের বা ছাত্রমৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় বর্ষের অনেক পড়ুয়ার বিরুদ্ধেও শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল।

VC Of State University : সার্চ কমিটিতে ২ বিতর্কিত, তির রাজভবনকে
তবে স্কোয়াডের সদস্যদের অনেকে মনে করছেন, যেহেতু রিপোর্টে রয়েছে–দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়ারাও র‍্যাগিংয়ের শিকার হতেন–তাই তাঁদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ কার্যকরী করা ঠিক নয়। বদলে দ্বিতীয় বর্ষের যে-সব পড়ুয়া সে দিন উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সতর্ক করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর পর পরই কাঠগড়ায় ওঠে একদল প্রাক্তনী ও ফেটসু’র তৎকালীন নেতা অরিত্র মজুমদার (আলু), গৌরব দাসের ভূমিকা।

ঘটনার পর আলুর অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে পোস্টারও পড়ে। সৈকত সিট নামে এক প্রাক্তনীর ভূমিকাও আতসকাচের তলায় আসে। গৌরব, সৈকত, আলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে কমিটির সুপারিশ ছিল, র‍্যাগিংয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করা, র‍্যাগিং সংস্কৃতিকে তোল্লাই দেওয়া, অ্যান্টি র‍্যাগিং বিধি কার্যকরী করার পথে বাধা তৈরি এবং প্রমাণ লোপাটে জড়িত থাকায় অরিত্র, গৌরবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কা, চিকিৎসক বাবার প্রেসারের ওষুধ খেল সাউথ পয়েন্টের পডুয়া! তারপর…
এই প্রসঙ্গে অরিত্রর বিরুদ্ধে আলাদা তদন্তেরও সুপারিশ করা হয়। গৌরব এবং অরিত্রর ক্ষেত্রে কোর্স শেষে ক্যাম্পাস এবং হস্টেলে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করে কমিটি। সৈকতের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে ঢোকায় পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু স্কোয়াডের অনেক সদস্যই মনে করছেন, এই তিন জনের বিরুদ্ধে কমিটির সুপারিশ যথেষ্ট ‘কড়া’ নয়। আরও কঠোর সাজা সুপারিশের দরকার ছিল।

স্কোয়াড সূত্রের খবর, অরিত্রর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় যাতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে, সে ব্যাপারে সুপারিশ করা হবে। রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টসের ভূমিকা প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির সুপারিশ নিয়ে আরও আলোচনা দরকার বলেও মনে করছে স্কোয়াড।

https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *