South Point School Students : পরিবারের দাবি চিকিৎসায় গাফিলতি, ‘সেফ ড্রাগে’ নীলাদ্রির মৃত্যু নিয়ে হতবাক চিকিৎসক – south point school student lost his life on drug overdose raise different questions kolkata police will probe


অরিজিৎ দে | এই সময় এক্সক্লিউসিভ

অগাস্ট মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। এবার এক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাঙ্গুলিবাগানের এক বেসরকারি হাসপাতালে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র নীলাদ্রি মান্নার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়াশোনার চাপের কারণে সে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ অ্যামলোডিপাইন (১৫০ মিলিগ্রাম) খেয়েছিল। তারপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে নীলাদ্রি। এই পডুয়ামৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। হাসপাতালের দাবি, ড্রাগ ওভাডোজের কারণে মৃত্যু হয়েছে স্কুল পড়ুয়ার। অন্যদিকে মৃত পড়ুয়ার পরিবার বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে।

পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কা, চিকিৎসক বাবার প্রেসারের ওষুধ খেল সাউথ পয়েন্টের পডুয়া! তারপর…
মৃত পড়ুয়ার পরিবারের দাবি, বই পড়তে বরাবরই ভীষণ ভালোবাসত নীলাদ্রি। পড়াশোনায়ও সে যথেষ্টই মেধাবী ছিল। হঠাৎ করে কেন সে ওষুধ খেল, তা নিয়ে এখনও ধন্দে গোটা পরিবার। যদিও পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ সামলাতে নীলাদ্রিকে যে বেগ পেতে হয়েছিল, তা তার পরিবারের কথায় স্পষ্ট। অন্য একটি সূত্রের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করবে না, আশঙ্কা থেকে এই কাজ করে থাকতে পারে ওই স্কুল পড়ুয়া। নীলাদ্রির বাবা পেশায় চিকিৎসক। সেই পরিবারের ছেলের এমন অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।

Heart Attack Symptoms : ক্লাসরুমেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত ছাত্রী! এই ২ কারণেই তরুণদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগের প্রবণতা?
নীলাদ্রির মামা কৌশিক সেনগুপ্ত যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। এই সময় ডিজিটালকে তিনি ফোনে বলেন, ‘মানসিক চাপের কারণে সে স্টেপলো ৫ (অ্যামলোডিপাইন) খেয়েছিল। কোথা থেকে পেল আমরা জানি না। ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ৩ অক্টোবর নীলাদ্রিকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়। ওর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ও সুস্থ হয়ে উঠছিল। হঠাৎ করে ফের অসুস্থ হয়ে যায়। তখন নীলাদ্রিকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে কার্ডিওলজিস্ট ও মনোবিদ দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে ওর চিকিৎসার কোনও বন্দোবস্ত করা হয়নি। বারবার ফোন করা হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ফোন ধরেননি। আজ সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।’

Medical Negligence: সামান্য কানের চিকিৎসা করাতে এসে মৃত্যু শিশু কন্যার, গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের
যদিও গোটা ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস এই সময় ডিজিটালকে বলেন, ‘সাধারণভাবে অ্যালোডিপাইন খুবই নিরাপদ ওষুধ। ড্রাগ ওভারডোজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা অনেকই রয়েছে। যদি অ্যামলোডিপাইনের কারণে মৃত্যু হয়, তবে বুঝতে হবে রক্তচাপ খুবই নীচে চলে গিয়েছিল। আমার মনে হয় গোটা বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার বলে আমার মনে হয়। পরিবারকে ভালো করে প্রশ্ন করা উচিত। যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা উচিত। সঠিকভাবে পুলিশের বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের ডিসি এসএসডি বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত এই সময় ডিজিটালকে বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে সাউথ পয়েন্টের পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি মানসিক চাপের কারণে সে বেশ কিছু ওষুধ খেয়ে নিয়েছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফলো করুন এই সময় ডিজিটালের চ্যানেল : https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *