BJP Party Office : বিজেপি অফিসের তালা ভেঙে ধুন্ধুমার, বিক্ষুব্ধদের মারে জখম ১ – inner party clash in salt lake bjp office one injured


এই সময়: হাজারো অনুরোধেও নেতৃত্বের টনক নড়েনি, তাই কামান দাগা হলো সল্টলেক দফতরেই! প্রথমে বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে গেট ভেঙে ফেলার বেপরোয়া চেষ্টা। তারপরে মূল ফটকের তালা ভাঙারও চেষ্টা করলেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকজন আবার পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলেন। অবশেষে গেটের বাইরেই দু’পক্ষের ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেল।

বুধবার বিকেলে এমনই দৃশ্য সল্টলেকে বিজেপি অফিসের। লড়াইটা বিজেপির সঙ্গে বিজেপিরই। একপক্ষের দাবি, তারা বঙ্গ-বিজেপিকে বাঁচাতে চায়। অন্যপক্ষের বক্তব্য, বিজেপিকে বাঁচানোর নামে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের পার্টি অফিসের চৌহদ্দির মধ্যেই ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলের নিচুতলার ক্ষোভ ইদানীং হামেশাই আছড়ে পড়ছে সল্টলেকে বঙ্গ-বিজেপির অস্থায়ী রাজ্য দফতরে।

Bharatiya Janata Party : ‘স্বস্তিকা’ শুভেন্দুদের স্বস্তি না দিলেও দলকে লাইন দেখিয়েছে
বুধবার সেই ক্ষোভের তীব্রতা ছিল অন্য দিনের থেকে অনেকটাই বেশি। বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলায় নবনিযুক্ত সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষকে সরানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দলেরই একাংশ। এ বিষয়ে একাধিকবার তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন দলের রাজ্য নেতাদের কাছে। সম্প্রতি বারাসতে এ নিয়ে একাধিকবার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার বারাসতের জনা সত্তর বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী দল বেঁধে হাজির হন সল্টলেকের অস্থায়ী রাজ্য দফতরে।

তাঁদের দেখেই পার্টি অফিসের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ওই বিক্ষুব্ধ কর্মীরা পার্টি অফিসে ঢুকতে না পারেন কোনওভাবে। তাতেই যেন আগুনে ঘি পড়ে। বিক্ষোভকারীরা গেটের বাইরে থেকেই চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমরা তো দলেরই কর্মী। আমরা কেন পার্টি অফিসে ঢুকতে পারব না? কেন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো?’ বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা বাঁশ-রড দিয়ে গেট ভাঙার চেষ্টা করেন। ইটের আঘাতে গেটের তালা ভেঙে ফেলেন একদল সমর্থক।

BJP West Bengal : ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ…’, জেলা কমিটি নিয়ে ‘অভিমানী’ পোস্ট অনুপমের
তার আগেই অবশ্য পাঁচিল টপকে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন পার্টি অফিস ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন। যদিও এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করে সল্টলেক অফিসের ভিতরের গেটগুলি আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) অমিতাভ চক্রবর্তীর জন্যই বিজেপিতে এত অশান্তি। বারাসত থেকে আসা এক বিজেপি কর্মীর কথায়, ‘অমিতাভবাবু নিজের হাতে দলটাকে শেষ করছেন। স্বজন-পোষণ করছেন। আমরা বিজেপিকে বাঁচাতে চাই।’

তবে শুধু গেটের তালা ভাঙা, পাঁচিল টপকানো আর অকথ্য গালিগালাজের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। দু’পক্ষের হাতাহাতিও হয়েছে এদিন। সন্ধ্যায় বিক্ষোভ যখন অনেকটা থিতু হয়ে এসেছে, তখন আচমকাই পার্টি অফিসের ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। নিজেকে বিজেপির সল্টলেকের যুব নেতা বলে দাবি করে তিনি বিক্ষুব্ধদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই সবার জন্য ভালো। তাতে নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যাপক মারধর করা হয় যুবককে।

Sukanta Majumdar : ‘ফাঁস’ হওয়া নম্বরে ফোন এলে কেন্দ্রের প্রচার করবেন সুকান্ত, কটাক্ষ তৃণমূলের
অফিসের কয়েকজন কর্মী তাঁকে উদ্ধার করতে এলে তাঁদের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। সূত্রের খবর, আজ, বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাতে আসবেন ‘বিজেপি বাঁচাও মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। এদিনের গোটা ঘটনা নিয়ে অমিতাভর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘এটা অনভিপ্রেত। দল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।’

https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *