Uttar 24 Parganas : দেওয়াল জুড়ে চিঠি লিখে বিষ খেলেন ছেলে হারানোর দম্পতি – naihati shibdaspur couple who lost their son played poison


এই সময়, শিবদাসপুর: মাঝরাতে পাশের বাড়ি থেকে গোঙানির আওয়াজ শুনে দুই পড়শি দরজায় টোকা দেন। দরজা খোলাই ছিল। ঘরে ঢুকে এমন দৃশ্য দেখতে হবে কল্পনাও করতে পারেননি— মেঝেয় পড়ে গোঙাচ্ছেন দেবনাথ দম্পতি। আর দেওয়াল জুড়ে নানারকমের কাগজ সাঁটা। তাতে ছত্রে ছত্রে লেখা ছেলে হারানোর দুঃখের কাহিনি, পুলিশি অবহেলার অভিযোগ। তখন অত খুঁটিয়ে দেখার সময় হয়নি দুই পড়শির। লোকজন জড়ো করে দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার ভোরে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মারা যান মহীতোষ দেবনাথ। মৃত্যুর সঙ্গে এখনও পাঞ্জা কষছেন মহীতোষের স্ত্রী বাসন্তী দেবনাথ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনেই কীটনাশক খেয়েছিলেন। পড়শিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মাস ছয়েক আগে দম্পতির একমাত্র ছেলে সোমনাথ আত্মহত্যা করেন। বৌমার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করেছিলেন মহীতোষ-বাসন্তী। তাতে অবশ্য কাজের কাজ কিছু হয়নি। তা মানতে না পেরেই প্রৌঢ় দম্পতি নিজেদের শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

Calcutta High Court : ‘দৃষ্টিহীন মায়ের সঙ্গে থাকা স্বামীর প্রতি নৃশংসতা নয়’
নৈহাটির শিবদাসপুরের দোগাছিয়া বটতলার মহীতোষ দেবনাথের একমাত্র ছেলে সোমনাথ এ বছরের গোড়ায় পালিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের একমাসের মধ্যেই ছেলে-বৌমার সম্পর্ক চরম তিক্ত হয়ে ওঠে। বৌমা বাপের বাড়ি চলে যান। মে মাসের ৩ তারিখ আত্মহত্যা করেন সোমনাথ। একমাত্র ছেলের এ ভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি মহীতোষ-বাসন্তী।

বৌমা ও ছেলের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তোলেন। মহীতোষের অভিযোগ ছিল, বিয়ের পর থেকেই ছেলের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু হয়। এমনকী শ্বশুরবাড়িতে সোমনাথকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। মহীতোষের বক্তব্য, এত অপমান সইতে পারেনি ছেলে। তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন মহীতোষ-বাসন্তী। কিন্তু শিবদাসপুর থানা প্রথমে এফআইআর নিতে চায়নি বলে অভিযোগ। পরে চাপে পড়ে অভিযোগ নিলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিলেন না ছেলে হারানো দম্পতি। এ ভাবে পাঁচ মাস কেটে যায়। কিন্তু পুলিশের তরফে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি বলে বারবার সকলকে বলতেন মহীতোষ। ক্রমেই প্রৌঢ় দম্পতিকে অবসাদ গ্রাস করতে থাকে।

সেই অবসাদ থেকেই বুধবার রাতে মহীতোষ-বাসন্তী এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অনুমান প্রতিবেশীদের। পুলিশ ঘরের দেওয়ালে সাঁটানো কাগজপত্র খুলে নিয়ে গিয়েছে। যে কাগজগুলিতে ছত্রে ছত্রে রয়েছে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর বিচার না পাওয়ার দুঃখ, তেমনই শিবদাসপুর থানার বিরুদ্ধেও রয়েছে একরাশ অভিযোগ। এ ছাড়া একটি লম্বা সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে।

Newtown Student Death : ‘কোচিং এ যাচ্ছি…রাতে কথা বলব’, শেষ ফোন সাজিদের! ছেলের খুনে বাক্যহারা বাবা-মা
যাতে উল্লেখ রয়েছে, ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বারংবার দম্পতি পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক, কেউ সহযোগিতাও করেনি। মহীতোষ মারা গেলেও এখনও লড়ে যাচ্ছেন বাসন্তী। তাঁকে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নৈহাটির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ পার্থ মণ্ডল বলেন, ‘বাসন্তী সুস্থ হলেই ওঁর সঙ্গে কথা বলা হবে। সেই মতো পরবর্তী পদক্ষেপ করবে পুলিশ।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *