মদনকে দেখে মুখে হাসি মমতার
৬২ পল্লীর পুজোর সভাপতি পদে রয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। ভার্চুয়াল উদ্বোধনের সময় পুজো মণ্ডপে মদনকে দেখে হাসিমুখে মমতা বলেন, ‘কী মিস্টার মদন মিত্র! নিজের পাড়ায় না থেকে ৬২ পল্লীতে চলে এসেছ। ভেনাস ক্লাবের পুজোর সামনে আছে, এটা মনে করিয়ে দিতে এসেছ! মদন মিত্র বহুত চালু। মদন মিত্র নাকি এখন আবার সিনেমা করছে! সিনেমা করে কত টাকা পেয়েছ?’
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, ‘গতকাল আমি কামারহাটিতে ছিলাম। সেখানে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। সিনেমার জন্য কোনও টাকা পয়সা দেয়নি। তার বদলে মৃত সৈনিকের পার্ট দিয়েছে।’ মমতাকে মদন বলেন, ‘উপরে ভগবান আরা মাটি মানুষ, তোমার সঙ্গে রয়েছে।’
মদনের থেকে গান শোনার আবদার মমতার
সোমবারের পুজো উদ্বোধনে মদন মিত্রর থেকে দু-লাইন গান শোনার আবদার করেন মুখ্যমন্ত্রী। দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর আবদার কী ফেলে দেওয়া যায়। মমতার অনুরোধে মদন গেয়ে ওঠেন, ‘কালীঘাটে আছে কালী, তারাপীঠে তারা মা! দক্ষিণশ্বরে ভবতারিণী, হরিশ চ্যাটার্জিতে সারদা মা।’ বলাই বাহুল্য মদনের এই গানের কলি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা।
দলীয় সতীর্থের গলায় গান শুনে মুখ্যমন্ত্রীকে দৃশ্যতই খুশি বলে মনে হচ্ছিল। তৃণমূল বিধায়কের গান শোনার পর মমতা বলেন, ‘বাবা কী গান বানালে তুমি! এবার তো তোমাকে সবাই গান গাইতে ডাকবে। তখন কিন্তু বিনা পয়সায় গান গাইতে যেও না। গান গেয়ে টাকা নেবে। সেই টাকা ৬২ পল্লীর পুজো কমিটিকে দিয়ে দেবে।’
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম দিন থেকে সঙ্গী কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। ২০১১ সালে তৃণমূল প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর মদনকে পরিবহণ ও ক্রীড়া দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন মমতা। সারদাকাণ্ডে জেলে যাওযার পর মন্ত্রিত্ব ছাড়েন মদন। ২০১৬-তে জেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে হেরে যান। ২০২১-এ ফের তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জিতে বিধায়ক হন তিনি।
এই সময় ডিজিটালের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ফলো করতে ক্লিক করুন...
