Durga Puja : বার্ধক্য ভাতা থেকে সারাবছর টাকা সঞ্চয়, গড়িয়ায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পুজো মুখে হাসি ফুটিয়েছে মহিলাদের – kolkata garia self help group durga puja totally organized by women


বাড়ির কাছে কোনও পুজো হয় না। আবার বয়সের ভারে খুব দূরে পুজো দেখতেও যেতে পারেন না তাঁরা। তাই নিজেরাই নিজেদের জন্য শুরু করেছিলেন দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোই গুটিগুটি পায়ে চলতে চলতে ৫ বছরে পদার্পণ করল। পুজো ঘিরে রীতিমতো আনন্দে মাতোয়ারা এলাকার বয়স্কা মহিলারা।

যে ভাবে হল সূচনা…

৫ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করে গড়িয়া তেঁতুলবেড়িয়া মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এলাকার মহিলাদের অনেকেই বয়স্কা। আবার এলাকায় কোনও পুজোও হয় না। তাই উৎসবের দিনে তাতে সামিল না হতে পারায়, মন খারাপ করে বসে থাকতেন তাঁরা। তারপরেই এলাকার মহিলাদের মাথায় আসে, তাঁরা যখন মা দুর্গার কাছে পৌঁছতে পারছেন না, তখন মা-কেই নিয়ে আসবেন নিজেদের ঘরে। আর যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। শুরু করেন দুর্গাপুজো। তারপর থেকেই এই পুজো চলে আসছে।

প্রতিমাসে টাকা জমান সদস্যারা
এলাকার ৫০-৬০ জনেরও বেশি মহিলা মিলে এই পুজো করেন। পুজোর জন্য নিজেরা প্রতিমাসে কিছু করে টাকা দেন। আবার বার্ধক্য ভাতা থেকেও টাকা দেন পুজোর জন্য। এছাড়া প্রত্যেকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকেও পুজোর জন্য অনুদান সংগ্রহ করেন। অর্থাৎ সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতাতেই চলছে গড়িয়া তেঁতুলবেড়িয়া মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী পুজো।

এই বিষয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী সদস্যা সুজাতা নস্কর বলেন, ‘এই পুজোর আয়োজন করি মহিলারা। কারণ এই জায়গায় তেমন পুজো হয় না। বয়স্কারা বাড়িতে থাকেন, বেরোতে পারেন না, তাই তাঁদের মন খারাপ হয়। সেই জন্য আমরা ফান্ড বানিয়েছি, সেখানে প্রতি মাসে কিছু টাকা দিই। ওঁরা (বয়স্কা মহিলারা) বার্ধক্যভাতা পান। সেইখান থেকে তাঁরা জমান। সেই থেকে পুজোর জন্য টাকা দেন।’ সুজাতা নস্কর আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ির লোকেদের থেকেও টাকা নিই। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাইরে আছে। তাদের থেকেও টাকা চাই। তারা অনলাইনে পাঠিয়ে দেয়।’

Santosh Mitra Square Budget: অযোধ্যার ৯০০ কোটির রাম মন্দির এবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে, এই পুজোর বাজেট কত জানেন?
গোটা দেবীপক্ষ ধরেই আনন্দে মেতে রয়েছেন কমিটির প্রত্যেক সদস্যা। পুজোর বাজার করা থেকে শুরু করে, আয়োজন, সমস্ত কিছুতেই মহিলারাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখানে এগিয়ে আসেন। বছরের এই কয়েকটা দিনের জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকেন তাঁরা। চলে সারা বছরের অপেক্ষা। আজ নবমী, আগামীকাল মায়ের শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাওয়ার পালা। তারপর থেকে ফের শুরু হবে এক বছরের অপেক্ষা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *