Stroke Symptoms : স্ট্রোকের বয়স কমছে, সাবধান না হলে বিপদ কিন্তু শিয়রেই – various studies says average age of stroke has been decreasing steadily every decade


এই সময়: গত শতকের শেষ দশকেও ব্রেন স্ট্রোকের গড় বয়স ছিল ৭১ বছর। এই শতকের প্রথম দশকে তা নেমে আসে ৬৯ বছরে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রতি দশকেই লাগাতার কমে চলেছে স্ট্রোকের গড় বয়স। আগে যেখানে ৪৫-৫০ বছরের কোঠায় ব্রেন স্ট্রোকের নজির ছিল বেশ বিরল, চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বলছে, এখন সেই নজির বেশ নিয়মিত।

এমনকী, ৩০ বছরের কম বয়সেও স্ট্রোক হচ্ছে অন্তত ৭-৯% ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবনশৈলী এবং অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের শিকার হয়ে পড়ার জেরেই তরুণ বয়সেও এড়ানো যাচ্ছে না স্ট্রোক। রবিবার, বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা আক্ষেপের সুরে জানালেন বাড়াবাড়ি রক্তচাপই স্ট্রোকের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভিলেন!

বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের (বিআইএন) নিউরোলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান চিকিৎসক গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, স্ট্রোকের দু’রকম রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে। একটা মডিফায়েবল—যেমন প্রেশার, সুগার, কোলেস্টেরল, জীনবশৈলী, ধূমপান, মদ্যপান, সিডেন্টারি লাইফস্টাইল ইত্যাদি। আর অন্যটি নন-মডিফায়েবল—যা মূলত জিনগত বা বংশগত।

মা-বাবা, দাদু-দিদিমা, ঠাকুরদা-ঠাকুমার যদি ৬৫ বছরের কম বয়সে স্ট্রোক হয়ে থাকে, তা হলে বর্তমান প্রজন্মের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তখন মডিফায়েবল ফ্যাক্টরগুলোকে পুরোপুরি বশে না রাখতে পারলে মুশকিল। স্ট্রোকের কবলে পড়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়া কিংবা মৃত্যু প্রায় অনিবার্য।

স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঝুঁকিরও তিনটি ধরন রয়েছে। শর্ট টার্ম রিস্ক হলো ইনফেকশন, সেপসিস আর স্ট্রেস। ইন্টারমিডিয়েট রিস্ক হলো প্রেশার-সুগার-কোলেস্টেরল, ধূমপান, মদ্যপান, জীবনশৈলী। আর লং টার্ম রিস্ক হলো জিনগত। বিআইএনের আর এক নিউরোলজিস্ট অলোক পণ্ডিতের কথায়, ‘উচ্চ রক্তচাপ হলো স্ট্রোকের জন্য পয়লা নম্বর ঝুঁকি। যত মানুষের স্ট্রোক হয়, তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি অনিয়ন্ত্রিত হাই ব্লাড প্রেশারের জন্য স্ট্রোকের শিকার হন। আচমকা রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের রক্তবাহিকা ফাটিয়ে দেয়। মস্তিষ্কের ভিতরটা তখন ভরে ওঠে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে।’

মণিপাল হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অংশু সেন মনে করেন, স্ট্রোকের নজির এত বেড়ে গেলেও এই রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও সে ভাবে সচেতনতা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, ‘বংশে স্ট্রোকের নজির থাকার অর্থ, আপনার স্ট্রোকের আশঙ্কা অন্তত ৫০% বেড়ে গেল অন্যদের চেয়ে। এবং সেটা আপনার বয়স কম হলেও। কেননা, আজকাল অনেক কম বয়সেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রেশার-সুগার-কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভোগেন। কায়িক পরিশ্রম হয় না বললেই চলে। তার উপর আবার রয়েছে ধূমপান ও মদ্যপানের বদভ্যাস।’

Stroke Symptoms : পর পর ১০০ বার স্ট্রোক! কথা জড়িয়ে প্যারালাইজড প্রৌঢ়, তারপরই মিরাকল…
একমত ফর্টিসের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ দেবাশিস চক্রবর্তী। তাঁর পরামর্শ, ‘বয়স ৪০ হলেই প্রেশার-সুগার-কোলেস্টেরলে নজর দিতে হবে। বাড়াতে হবে কায়িক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম। নেশাকে দূরে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।’ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অনিমেষ কর মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হিমেল হাওয়া কড়া নাড়ছে দুয়ারে। ঠান্ডা পড়লেই স্ট্রোকের নজির প্রতি বছর বেড়ে যায়।

কারণ, শীতে শারীরবৃত্তীয় নানা কারণে বেড়ে যায় রক্তচাপ। তাই শীতের মুখে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের একবার অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কেননা, প্রয়োজনে ওষুধ বদলে কিংবা অতিরিক্ত ওষুধ দিয়ে রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখেন চিকিৎসক।

Dengue Fever : বেশি ইমিউনিটি প্রাণ নিচ্ছে ডেঙ্গি আক্রান্ত কমবয়সিদের?
স্ট্রোকের সাত সতেরো প্রতিরোধ কোন পথে?

* উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
* ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরলে সমস্যা যেন মাত্রা না ছাড়ায়
* রেড মিট, ভাজাভুজি ও কাঁচা নুন এড়িয়ে চলুন
* শাক-সব্জি, ফল ও স্যালাড বেশি করে খান
* ধূমপান ত্যাগ করুন, মদ্যপান যেন মাত্রা না ছাড়ায়
* স্ট্রেট এড়িয়ে চলুন, পর্যাপ্ত ঘুমোন
* শুয়ে-বসে থাকা জীবন (সিডেন্টারি লাইফস্টাইল) চলবে না
* রোজ অন্তত আধঘণ্টা হাঁটুন। ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন
* উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শীতের আগে ডাক্তারের কাছে চেক-আপে যান

চিনবেন কী ভাবে?

* অস্বাভাবিক মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে বমি, জ্ঞান হারানো
* শরীরের যে কোনও একটি দিক দুর্বল কিংবা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়া
* কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া
* আচমকা ভারসাম্যহীনতা, চিন্তাভাবনা থমকে যাওয়া
* হঠাৎ দৃষ্টি কিংবা শ্রবণের সমস্যা তৈরি হওয়া

সন্দেহ হলে কী করণীয়?

* গাড়ি, বাইক, স্কুটার, সাইকেল ইত্যাদি চালানোর চেষ্টা করবেন না
* একটা জায়গায় বসে বা শুয়ে পড়ুন
* শোয়া অবস্থায় জল বা পানীয় খাবেন না
* সিটি স্ক্যানের সুবিধা আছে, দ্রুত তেমন কোনও হাসপাতালে যান



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *