১০৮ নরমুণ্ড দিয়ে পুজো মায়ের! ঘন অন্ধকার শ্মশানে শবসাধনা…।kali worshipped by one hundred eight skulls beside the Bishnupur cremation ground Bishnupur Shmashana


নকিব উদ্দিন গাজি: আদিগঙ্গার পাড়ে কয়েকশো বছরের প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান। এই শ্মশানেই আগে ভিড় জমাতেন তান্ত্রিক ও সাধকরা। শবসাধনায় বসতেন অনেকেই। এখনও শ্মশানে ঢুকলে গা ছমছমে পরিবেশ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তান্ত্রিকদের সাধনার জোরে আজও রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে এই শ্মশান।

আরও পড়ুন: kalipuja 2023: ৩০০ বছরের পুরনো কালীমূর্তির কাঠ উঠল পুকুর থেকে! অলৌকিক আদেশ পেলেন জমিদার…

১১০ বছর আগে এই শ্মশান-লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে টালির ছাউনির নীচে কালীপুজো শুরু করেছিলেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। ১০৮টি নরমুণ্ড দিয়ে চলত তন্ত্রমতে দেবীর উপাসনা। সেই থেকেই শ্মশানে পূজিত হয়ে আসছেন মা করুণাময়ী কালী। আজও, শ্যামাকালী পুজোর দিন  এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে। 

স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত, তন্ত্রের দীক্ষা নিয়ে শ্মশানে সাধনা শুরু করেছিলেন মণিলাল চক্রবর্তী। কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশান-লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে পুজো শুরু করেন তিনি। দেবী নিত্যপুজোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে পাকাপাকি ভাবে তৈরি করা হয় মন্দির। গঙ্গার তীরে তখন ছিল ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলে বাস হিংস্র জীবজন্তুদের। কোনওভাবেই মানুষের প্রবেশ সম্ভব ছিল না। কিন্তু সেই জঙ্গল সাফ করেই জঙ্গলের মধ্যে তৈরি হল মন্দির।

মন্দিরে কালীমূর্তির পিছনে বসানো হল ১০৮টি নরমুণ্ড। কোথা থেকে এল এত নৃমুণ্ড? এইসব নরমুণ্ড যাঁদের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের। মায়ের সামনে পঞ্চমুণ্ডির আসন। মায়ের বেদির নীচেও দেওয়া হয় নরমুন্ড। তবে এখানে মায়ের মূর্তি তৈরি হয় বালি-সিমেন্ট দিয়ে। তা মাটির নয়, কংক্রিটের। এখানে তন্ত্রমতে দেবীকে পুজো দেওয়া হলেও কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ বলি। কালীপুজোর দিন প্রথমে শ্মশানে যে শব আসে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এরপর কালীর পুজো শুরু। ১০৮ টি নরমুন্ডের পুজো দেওয়া হয়। তার পরেই শুরু হয় মা কালীর পুজো। পুজোর দিন মদ, কাঁচা মাংস ও পোড়া শোল মাছ দিয়ে পুজো করা হয়।

মণিলালের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পুত্র শ্যামল চক্রবর্তী মন্দিরের দায়িত্ব সামলে আসছেন। তিনিই এখন প্রধান সেবাইত। অশীতিপর শ্যামলবাবু জানান, বাবার মৃত্যুর পর কাকা ফণীভূষণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে তন্ত্রের শিক্ষা নিতে থাকি। পরে করুণাময়ী মন্দিরে মায়ের নিত্য পূজা শুরু করি। 

আরও পড়ুন: kalipuja 2023: বলির সময়ে রক্তপ্রিয় মা কালীকে কেন কোমরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, জানেন?

পুজোর দিন দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন এই পুজো দেখতে। মনস্কামনার জন্য মন্দিরের সামনে একাধিক ঢিল বেঁধে রাখেন ভক্তেরা। তবে এক সময় এই মন্দিরে আসতে ভক্তরা ভয় পেতেন। চারিদিকে গা ছমছমে ভাব, অন্ধকার জঙ্গল। এখন অবশ্য অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে এর। রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বসার জায়গা, রয়েছে আলো। কিছুটা হলেও আধুনিক হয়েছে মন্দির চত্বর।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *