Indian Railways: ‘ভুতুড়ে স্টেশন’ নামেই এখন পরিচিত বীরসা মুণ্ডা হল্ট! কলঙ্ক ঘোচার অপেক্ষায় একাকী বৃদ্ধ – bishnupur tarakeswar route rail station birsa munda halt is now a haunting place here is the reason


সন্ধ্যে নামলেই কালো অন্ধকার গিলে ফেলে পুরো এলাকা। গা ছমছমে পরিবেশ, মনে হয় অশরীরীরা আস্তানা গেড়েছে এখানেই। ফলে ওই সময়টাতে ওদিকে আর যাওয়ার সাহস করেন না কেউই। কিন্তু, বছর বারো আগে, এই স্টেশনের শুরুর সময়টা মোটেই এমন ছিল না। ২০১০ সালে উদ্বোধন হয় দক্ষিণ পূর্ব রেলের বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর লাইনের এই ‘বিরসা মুণ্ডা হল্টে’ স্টেশন ছিল পর্যাপ্ত আলো ও পানীয় জলের ব্যবস্থা।

শুরুর দিনে স্টেশনে স্নানাগার থেকে শৌচাগার আর যাত্রী প্রতীক্ষালয় সবই ছিল। কিন্তু ‘লাভজনক’ রুট না হওয়ায় শুরুর মাত্র সাত মাস পরেই দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকিট বিক্রেতা ঠিকাদার পাততাড়ি গুটোনোর পর থেকেই ‘বিরসা মুণ্ডা হল্টে’র অবস্থার অবনতি শুরু। এখনও প্রতিদিন সন্ধ্যায় ও রাতে এই স্টেশনে একটি করে ট্রেন থামলেও নামেন না কোন যাত্রী, ওঠেনও না কেউ। বাংলা আর হিন্দীতে বড়বড় করে ‘বিরসা মুণ্ডা হল্ট’ লেখা থাকলেও দুস্কৃতীদের আস্তানা হয়ে উঠেছে এই হল্ট স্টেশন। কেউ কেউ বলেন, রাত্রি হলেই শুরু হয় অশরীরীদের দাপাদাপি। যদিও এই ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই কারও কাছেই। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে ওপথে পা না বাড়ায়, তাই কুকীর্তি ঢাকতে ভূতের গুঞ্জন তারাই তবে হল্ট স্টেশনের বিল্ডিংয়ের দরজা, জানালা, জলের কল কেউ বা কারা খুলে নেওয়ার পাশাপাশি উঠতি ‘রোমিও’দের প্রেম নিবেদনের অন্যতম জায়গা যে হয়েছে দেওয়ালে লেখাগুলো পড়লেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

এই স্টেশন দিয়ে যাত্রী ওঠা নামা না করলেও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন বিনা পারিশ্রমিকে স্টেশন চত্বর পরিষ্কার রাখতেন অশীতিপর বৃদ্ধ মানিক দুলে। বাড়ির ছাগল চরাতে গিয়ে প্রতিদিন দু’বেলা জঙ্গলের গাছপালা ভেঙে পুরো এলাকা পরিষ্কার রাখতেন তিনি। কিন্তু, এখন ‘অসুস্থ’ থাকায় যেতে পারেন না স্টেশনে। ফলে পুরো এলাকা ঝোপ ঝাড় আর জঙ্গলে ভর্তি। অযত্ন আর অবহেলায় দিনের বেলাতেও গা ছমছমে পরিবেশ। যেতে ভয় পান সাধারণ মানুষ। তবে ‘সুস্থ’ হয়ে উঠলে ফের যাবেন স্টেশনে। তিনি আশাবাদী ফের এই স্টেশন নতুন করে সেজে উঠবে, মানুষের যাতায়াত বাড়বে। স্থানীয়রাও চান শীঘ্র ‘ভুতুড়ে স্টেশনে’র কলঙ্কও ঘুচে যাক তাঁদের সাধের ‘বিরসা মুণ্ডা হল্টে’র। তবে সেই দিনটা কবে জানেন না কেউই, জানেন না বৃদ্ধ মানিক দুলেও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *