Stroke Treatment : স্ট্রোকের চিকিৎসায় কামাল করছে মহকুমা হাসপাতালও – baruipur divisional hospital has achieved great success in stroke treatment


এই সময়: স্ট্রোকের চিকিৎসায় দিনকে দিন কমছে বিআইএন-নির্ভরতা। তবে যে প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরতা কমছে, সেই বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস (বিআইএন)-এরই নেতৃত্বে, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ‘স্বাস্থ্য-ইঙ্গিত’ নামে টেলি-মেডিসিন প্রকল্পের হাত ধরে একের পর এক মহকুমা স্তরের হাসপাতালে সফল ভাবে চিকিৎসা হচ্ছে ইসকিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের। যা স্ট্রোকের মরশুম বলে পরিচিত, শীতের মুখে আশা জোগাচ্ছে। বাঁচছে অমূল্য সময় এবং সেই সূত্রেই মিলছে নতুন জীবন।

প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে সম্প্রতি নজির গড়ে নজর কেড়েছে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল। শুধু অক্টোবরে এই হাসপাতালে ১২ জনের স্ট্রোকের চিকিৎসা সফল ভাবে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংখ্যার বিচারে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল আপাতত রাজ্যে এক নম্বরে। স্বাস্থ্য ভবনের হিসেব বলছে, এর পরেই রয়েছে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল এবং ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল, যেখানে এই একমাসে যথাক্রমে ১১ জন ও ৯ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্য-ইঙ্গিতের মাধ্যমে। তিনটি হাসপাতালে জীবন ফিরে পাওয়া এই ৩২ জনের কেউই স্ট্রোক-পরবর্তী পক্ষাঘাতের কবলে পড়েননি। একই ভাবে রাজ্যের অন্যান্য জেলা ও মহকুমা কিংবা স্টেট জেনারেল স্তরের হাসপাতালেও প্রাণ বাঁচছে স্ট্রোকের শিকার রোগীদের।

স্ট্রোক দু’রকমের- হেমারেজিক ও ইসকিমিক। প্রথমটিতে মস্তিষ্কের রক্তবাহিকা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। আর দ্বিতীয়টিতে মস্তিষ্কের রক্তবাহিকায় ‘ক্লট’ জমে গিয়ে রক্ত চলাচল থেমে যায় মস্তিষ্কের এক বা একাধিক নির্দিষ্ট অংশে। দেখা গিয়েছে, এই ইসকিমিক স্ট্রোকের শিকার রোগীকে যদি চার ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায়, তা হলে প্রাণ তো বাঁচেই, এড়ানো যায় পক্ষাঘাতও। যথাযথ চিকিৎসা মানে, সিটি স্ক্যান করে আগে দেখা যে, সত্যিই ইসকিমিক স্ট্রোক হয়েছে এবং তার পর ‘হিউম্যান প্লাসমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর’ গোত্রের ইঞ্জেকশন দিয়ে ক্লট গলিয়ে দেওয়া।

Dengue Fever : ট্যাবলেটে জব্দ ডেঙ্গি? আশায় স্বাস্থ্য মহল
কিন্তু চার ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করাটাই মুশকিল। এই চিকিৎসার সর্বোত্তম জায়গা হলো বিআইএন। অবশ্য সমতুল চিকিৎসা বরাবর হয়ে আসে মেডিক্যাল কলেজ স্তরের হাসপাতালগুলিতেও। কিন্তু কলকাতা ও জেলা সদর থেকে দূরে থাকা রোগীদের স্ট্রোক হলে চার ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা দেওয়াটাই সম্ভব হয়ে ওঠে না রাস্তায় সময় নষ্ট হওয়ার কারণে। রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্য-ইঙ্গিত প্রকল্পে বিআইএন হাসপাতালকে নোডাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা হয়েছে । টেলি-মেডিসিনের মাধ্যমে বিআইএনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে সব মহকুমা স্তরের হাসপাতালে এখন স্ট্রোকের চিকিৎসা হচ্ছে। স্থানীয় স্তরে স্ট্রোকের এমন চিকিৎসা মেলার কল্যাণেই বাঁচছে অমূল্য সময়, অসংখ্য প্রাণ।

তবে শুধু বিআইএনের পরামর্শে সাফল্য আসেনি। এ ক্ষেত্রে মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলির চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকাও অপরিসীম। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ধীরেশ রায়ের কথায়, ‘এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে রোগীর পরিবারের সচেতনতা এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠা।’ তিনি জানান, অক্টোবরের এই সাফল্য তাঁরা সারা বছর ধরে রাখতে চান। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর একটাই আবেদন- স্ট্রোকের কোনও রকম উপসর্গ দেখলে সময় নষ্ট না-করে রোগীকে হাসপাতালে আনা জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *