West Bengal News: ক্যানসারে উপকারী জাফরানের সফল ফলন নিউ ব্যারাকপুরে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি মশলা চাষে অসাধ্য সাধন বাঙালি যুবকের! – north 24 parganas nilay biswas successfully farming saffron in a room


Saffron Farming: কাশ্মীরের ফসল নিউ ব্যারাকপুরে। এমনই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন বাঙালি যুবক। বিশ্বের অন্যতম দামি মশলা জাফরান, যা চাষ হয় ভূস্বর্গে। এই জাফরান অ্যান্টি ক্যানসারের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়। সমতলে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় সেই মশলা সফলভাবে চাষ করে তাক লাগিয়েছেন নিলয় বিশ্বাস। মারণে রোগ ক্যানসারে আক্রান্ত, অ্যান্টি ক্যান্সারের ওষুধ হিসাবে প্রধান খাদ্য কেশর বা জাফরান, কিন্ত জাফরানের বাজার মূল্য সাধারণ মানুষের ধরাছোয়ার বাইরে। সেই থেকেই মনে ধরল জেদ। কী ভাবে সস্তায় কেশর চাষ করা যাবে সেই ভাবনা নিয়েই চাষের কাজে নামেন তিনি ।

বাড়ির ভিতরেই এক টুকরো কাশ্মীর। শুনে অবাক হলেও এটাই বাস্তব। বাড়ির ভিতর জাফরান অর্থাৎ কেশর চাষ করে এবং সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করে নজির সৃষ্টি করেছে উত্তর ২৪ পরগনা নিউ ব্যারাকপুরের নিলয় বিশ্বাস। এই কেশর বা জাফরান মূলত ভূস্বর্গ কাশ্মীরেই মূলত চাষ হয়।সেখানকার আবহাওয়ায় কেশর উৎপন্ন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া যা কোনদিনই সম্ভব নয় বলে এতদিন ভাবতেন সকলে। কিন্ত, সেই ধারণা ভুল বলে প্রমাণ করলেন নিলয়। সেই কাশ্মীরের আবহাওয়া তার ৬ ফুট বাই ৬ ফুট ঘরের মধ্যেই তৈরি করেছেন তিনি। ডেয়ারি টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন নিলয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে জাফরান চাষ নিয়ে রিসার্চ করেছেন তিনি। তারপর প্রথমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে জাফরান চাষের জন্য ঘর তৈরি করেন তিনি। এছাড়াও ঘরের টেম্পারেচার মাপার জন্য কিছু মেশিন কিনেছেন। যাতে রয়েছে সূর্যের আলোর বিকল্প হিসেবে প্রয়োজনীয় আলো। ঘরে রয়েছে দুটি এসি। ৬/৬ ঘরের মধ্যে কয়েকটি র‍্যাক শুরু করেন জাফরান চাষ।

তবে হঠাৎ কেন বেছে বেছে জাফরান চাষ করার জেদ চাপল নিলয়ের। একদিকে জাফরান চাষ সফলভাবে করতে পারলে, এর থেকে ভালো ব্যবসা আর কিছু হতে পারে না। তবে নিলয়ের জাফরান চাষ শুরু করেছিলেন এক বন্ধুর কথা ভেবে। জানা গিয়েছে, নিলয়ের এক বন্ধুর হঠাৎই মারণ রোগ ক্যানসার ধরা পড়ে। এরই মাঝে নিলয় খোঁজ নিতে থাকেন, অ্যান্টি ক্যানসার উপাদান কোন কোন খাবারের মধ্যে আছে। সামনে আসে জাফরানের নাম। একমাত্র জাফরান বা কেশর হল অ্যান্টি ক্যানসারের মহান ওষুধ। শুরু হল জাফরান চাষ নিয়ে পড়াশোনা। জাফরান চাষে কাজে লেগেছিল তাঁর ডেয়ারি টেকনোলজির জ্ঞান।

প্রথমে ঘর তৈরি করা এবং পরবর্তীতে অনলাইনে জাফরান বিচ এনে তার চাষ শুরু করেন তিনি। জাফরান ভারতীয় বাজারে ৫ লাখ টাকা থেকে ১২-১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম। বেশি দামের জাফরান বাইরে রফতানি হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছরই জাফরান উৎপাদনের ঘাটতি থেকে যায়। তাই প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আমদানি করাতে হয় কেশর। এই ব্যবসা যদি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে করা যায় তাহলে লাভের অংশ অনেকটাই। বছরে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই সময়েই ফুল হয় এবং সেখান থেকে জাফরান পাওয়া যায়। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও জাফরান চাষ খুব শক্ত। না জেনে এই চাষে নামলে প্রচুর অর্থ নষ্ট হতে পারে।

নিলয় বিশ্বাস পেশায় চাকরিজীবী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আধিবাসী উন্নয়ন দফতরে চাকরি করেন। অফিস থেকে এসেই রাতে তার কেশর গাছের চর্চা শুরু করেন। যে ঘরটি তৈরি করা হয়েছে, সেই ঘরটিও নিলয় নিজের হাতেই করেছেন। তিনি অনলাইন অর্ডার করে কেশরের বিচ আনিয়েছেন। মোট ১৮০ টি গাছ করেছেন তিনি, যার মধ্যে ১৫০টি ফুল পেয়ে গিয়েছেন। এই ১৫০ টি ফুল থেকে এক গ্রাম ড্রাই কেশর আসে।সেই ড্রাই কেশর তৈরি করতে ৪৫ মিনিট ধরে ৬০ ডিগ্রি টেম্পারেচার দিয়ে ড্রাই করতে হবে। তারপরেই সেই কেশর বাড়িতে রাখা যাবে, যার মেয়াদ থাকবে ৩ বছর থেকে ৭ বছর পর্যন্ত। নিলয় যে পদ্ধতিতে কেশর বাজারে আনতে চলেছে, সেই কেশরের এক গ্রামের দাম মিনিমাম ৫০০ টাকা হবে।তবে এবছর প্রথম ফলন,সেই কারণে বিক্রির কোন চিন্তাই নেই। এবছর পরিবার এবং পরিচিতদের মধ্যেই কেশর বিলোবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে এই কেশর নিয়ে বড়ভাবে কিছু করার পরিকল্পনা আছে রয়েছে তাঁর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *