BJP In West Bengal : সতর্কবার্তা দিলেও শাস্তি নয় বিক্ষুব্ধদের! জল্পনা বিজেপিতে – why bjp is not taking any disciplinary action against them who vandalized offices know reasons


এই সময়: শাস্তির হুঁশিয়ারিই সার। এখনও শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি বিশেষ কাউকে। ‘অভিযুক্ত’রা বহাল তবিয়তেই বিজেপিতে আছেন। ভবিষ্যতে বঙ্গ-বিজেপির ক্ষমতাসীন শিবিরের উপর স্নায়ুচাপ কী ভাবে বাড়ানো যায়, আপাতত সেই পরিকল্পনা তৈরিতেই ব্যস্ত তাঁরা। সূত্রের খবর, ভাইফোঁটা মিটলে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পথে নামার কথা ভাবছেন বিভিন্ন জেলার বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা।

স্বভাবতই গেরুয়া শিবিরে প্রশ্ন উঠেছে, দফায় দফায় যাঁরা বিজেপি রাজ্য অফিসে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন, ভাঙচুর চালালেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করছে না কেন? রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের প্রশাসনিক দৃঢ়তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা দলের রাজ্য অফিসে হামলা চালানোর পর সুকান্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পদক্ষেপ করার বার্তাও দিয়েছিলেন। কিন্তু একমাস কেটে গেলেও বিজেপির একজন নেতা-কর্মীও শাস্তির মুখে পড়েছেন বলে জানা যায়নি।

গত ১১ অক্টোবর সল্টলেকের বিজেপি অফিসে তুলকালাম হয়। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষের অপসারণের দাবিতে বিক্ষুব্ধরা অভিযান চালান সল্টলেক অফিসে। অফিসের মূল গেটের তালাও ভেঙা হয়। বিজেপির দু’পক্ষের হাতাহাতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেদিন। এর কিছুদিন পরেই আবার মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে দলের বিভিন্ন জেলার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা হানা দেন।

সুকান্ত মজুমদারের ছবিতে জুতো ছুড়ে মারতেও দেখা যায় তাদের। আবার মথুরাপুরের বিজেপি কর্মীদের একাংশ সল্টলেক অফিসে জড়ো হয়ে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যকে হাতের নাগালে পেয়ে তাঁর কাছে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দেন শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে একাধিক ইমেলও করা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কাছে। সেই সঙ্গে রাজ্য দপ্তরের বাইরে চলতে থাকে দলের বিক্ষুব্ধদের ধর্না কর্মসূচি। প্রথমে এই বিষয়ে দলের কড়া মনোভাবের কথা জানান শমীক। তিনি বলেছিলেন, ‘যা হচ্ছে তা কঙ্খিত নয়। এটা বিজেপির সংস্কৃতিও নয়। দল নজর রাখছে।’ এরপরে সুকান্ত কোনও রাখঢাক না করেই বুঝিয়ে দেন, যাঁরা বিক্ষোভের নামে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে।

কিন্তু এখনও ওইসব বিক্ষোভের ঘটনায় বিজেপির একজনকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি বলে দলীয় সূত্রে খবর। সুকান্তর কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সংবাদমাধ্যমে কিছু বলব না।’ একই সুর শমীকের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘কাকে শাস্তি দেওয়া হবে, কাকে হবে না, সেটা পুরোপুরি পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করব না।’

বিজেপির অন্দরের খবর, বিক্ষোভের ঘটনায় ‘অভিযুক্তদের’ শাস্তি দিলে বিক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই আপাতত গোটা বিষয়টি চেপে যেতে চাইছেন তাঁরা। রাজ্য বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘দলীয় অফিসে বিক্ষোভের পর শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন, তৃণমূলের লোকরাই বিজেপি সেজে হামলা করেছে। এটাই পার্টির প্রকাশ্য অবস্থান হওয়া উচিত ছিল। তাতে শাস্তি না দেওয়ার কারণ নিয়ে আমাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না। কারণ, তৃণমূলের লোকরাই বিক্ষোভ দেখালে বিজেপি কাকে দল থেকে সাসপেন্ড করবে? কাকেই বা শো-কজ়ের চিঠি ধরাবে?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *