Barrackpore Police : ফিরছে খুনের ত্রাস, অশান্ত শিল্পাঞ্চল নিয়ে চিন্তায় পুলিশ – barrackpore police chiefs worried about several murders in jagaddal bhatpara titagarh


অশীন বিশ্বাস
বদল হয়েছে শাসকের। বেড়েছে থানা। কিন্তু জগদ্দল, ভাটপাড়া অঞ্চলে সেই আগের মতোই! পরপর কয়েকটি খুনের ঘটনায় সে প্রশ্নই উঠছে নতুন করে। একই ছবি টিটাগড়েও। কোথাও গুলি করে, কোথাও কুপিয়ে। উৎসবের মরসুমে চারটি খুনের পর আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। তবে কি টিটাগড়ও ফের আগের অবস্থায় ফিরতে চলেছে- এই প্রশ্নই এখন টিটাগড় থেকে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আনাচে কানাচে ঘুরছে। পুলিশ কর্তারাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

গত মঙ্গলবার ভর সন্ধেয় খুন হন বিক্কি যাদব। তার আগে অগস্ট মাসে কাঁকিনাড়ায় বিকাশ বেহরা নামে এক জুটমিল কর্মীকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে পায়ে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। কোনও মতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। জুলাই মাসে জগদ্দল রুস্তম গুমটি এলাকায় ব্যবসায়ী রোশন আলির বাড়িতে বোমাবাজি করা হয়। মে মাসে শ্যামনগর রাহুতা পরীর বাগান মোড়ে চায়ের দোকানে আচমকা হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ওই মাসেই ভাটপাড়া পানিট্যাঙ্কি মোড়ে নাকা চেকিংয়ের সময় বাইক আটকানোয় দুষ্কৃতীদের ডেকে পুলিশকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। ফেব্রুয়ারি মাসে জগদ্দল পালঘাট রোডে শাসক দলের ওয়ার্ড সভাপতি অশোক সাউকে লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। নোয়াপাড়াতেও মাস খানেক আগে বাজারের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় একজন।

গত বছর জুলাই মাসে জগদ্দলে খুন হন রিজওয়ান আলি (২৬) নামে এক জুটমিল কর্মী৷ ওই একই মাসে শ্যামনগরে নেশার আসরে বন্ধুর হাতে খুন হন রোহিত দাস (১৮) নামে এক তরুণ। সেই মাসেই সাতসকালে বাড়ির একেবারে কাছে ভাটপাড়া বাঁকড়া মহল এলাকায় দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুন করে সালাউদ্দিন আনসারি ওরফে মুকুলকে।

খুনের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ঠিকই। কিন্তু দুষ্কৃতীরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তা এই খুনের ঘটনাগুলোয় পরিষ্কার। সূত্রের খবর, মামলা ধরে ধরে খুঁটিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। দাগী অপরাধীদের কারা জেলের মধ্যে রয়েছে এবং কারা জেলের বাইরে সেই তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেই তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে আমরা কিছু চিন্তাভাবনা করছি। প্রতিটি কেস আমরা খতিয়ে দেখছি।’ পুলিশ কমিশনারের হুঁশিয়ারি, অপরাধীদের জন্য পুলিশ আরও কঠোর হবে। কোনও আপোস নয়। কিন্তু তাতে শিল্পাঞ্চল কতটা শান্ত হয়, তা হয়তো সময় বলবে।

এক মাসের মধ্যে যে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে দু’টি টিটাগড় ওড়নপাড়াতে। বাকি দু’টি পুরানি বাজার এবং আলি হায়দার রোডে৷ ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীও এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘টিটাগড়ে আমি এই ধরনের কালচার শেষ করতে চাই। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি নো ক্রাইম, নো ক্রিমিনাল। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।’

সম্প্রতি ওড়নপাড়ায় বাড়ির কাছে মহম্মদ হাসান ওরফে ছোটকা খুন হন। পুরোনো বিবাদ থেকে তাঁকে খুন করা হয়েছিল। ধৃত হোসেন রাজা ওরফে আরমান এবং মহম্মদ কবির ওরফে ছোটুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একপ্রকার এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানতে পেরেছে, বছর তিনেক আগে নিহত ছোটকার হাতে আক্রান্ত হন ঘটনায় ধৃত আরমানের স্ত্রী। সূত্রের খবর, আরমান পুলিশকে জেরায় জানিয়েছে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতি হয় গর্ভস্থ সন্তানের। জন্মানোর পর থেকেই আরমানের সন্তানের কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সেই রাগেই কবীরকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে ছোটকাকে চারটি গুলি করে তারা পালায়।

২৯ অক্টোবর তৃণমূলের দুই কাউন্সিলারের দ্বন্দ্বে টিটাগড় পুরানি বাজারে আকাশ প্রসাদ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তাঁকেও খুনের অভিযোগ ওঠে। ১৪ অক্টোবর দুপুরে ওড়নপাড়াতেই প্রকাশ্যে বাড়ির সামনে টোটোর মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মহম্মদ আব্দুল (২৭) নামে এক যুবককে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে কুপিয়ে খুন করে তাঁরই বন্ধু বলে অভিযোগ। আলি হায়দার রোডে সন্ধ্যায় সব্জির দোকান খোলার সময় জামাইবাবুর হাতে খুন হন শ্যালক। টিটাগড় থানা এলাকা থেকেই ব্যারাকপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা শ্যামল মালিক নামে এক টোটো চালকের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করে খুন করা হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

পরপর খুনের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে শান্ত হবে?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *