দূষণের জেরে ‘দমবন্ধ’ ভাগীরথী-জলঙ্গি, নদী বাঁচাতে ৪০০ কিমি একাই ‘নৌকো’ ভাসাবেন সুদেষ্ণা – a young woman from talliganj will anchor in 15 ghats to spread awareness about river pollution


সোমনাথ মণ্ডল
সিকিমে তিস্তার ধ্বংসলীলায় খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছিল ঘর-বাড়ি। নদীর গতিপথে বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুতের প্রকল্পকেই তার জন্য দায়ী করছেন পরিবেশকর্মীরা। হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে নদীপথে প্রায়ই এমন বিপর্যয় ঘটে চলেছে। এই শহরের বুক দিয়ে বয়ে চলা আদিগঙ্গাও অত্যন্ত দূষিত বলেই মনে করেন নদী আন্দোলনের কর্মীরা। দূষণের জেরে ‘দমবন্ধ’ হয়ে যাচ্ছে ভাগীরথী, জলঙ্গি, ইছামতি, মাথাভাঙ্গা, চূর্ণী এবং পদ্মাও। অথচ, যে নদীর জন্য মানুষের জীবন-জীবিকা বেঁচে থাকে, সেই মানুষেই নদীর ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে বলে মত পরিবেশকর্মীদের।

তারই প্রতিবাদে এ বার হাতা-খুন্তি ছেড়ে ৪০০ কিলোমিটার নদী পথে ‘নৌকা’ ভাসতে চলেছেন টালিগঞ্জের বাসিন্দা এক তরুণী! সচেতনতার এই জার্নিতে ১৫টি ঘাটে নোঙর করবেন সুদেষ্ণা পাল কর। নৌকা নিয়ে যেখানে তিনি থামবেন, সেখানে নদী আন্দোলনের কর্মীরা বাসিন্দাদের বোঝাবেন, নদীকে বাঁচাতে হবে? নদী না থাকলে মানব সভ্যতা কী ভাবে অচিরেই শেষ হয়ে যেতে পারে?

নদীকে বাঁচাতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে বছরভর। তবে এ বার ছোট নৌকার মতো একটি জলযান নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার আহিরন ঘাট থেকে কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে পৌঁছনোর পণ করেছেন ওই হোমমেকার। আগামী ২৮ নভেম্বর রওনা দিয়ে প্রিন্সেপ ঘাটে ১২ ডিসেম্বর পৌঁছনোর কথা তাঁর! শীতকালে প্রায় চারশো কিলোমিটার একাই ‘কায়াকিং’ অভিযান করবেন তিনি।

নদীকে বাঁচানোর অভিযানের ট্যাগ লাইন– ‘সেভ রিভার, সেভ লাইফ’। কায়াকিং মূলত একটি ওয়াটার স্পোর্টস হলেও, পরিবেশকে বাঁচাতে সাময়িক বিরতি নিয়ে ‘একক অভিযান’-এ নামবেন তিনি। অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে আগ্রহী সুদেষ্ণার কথায়, ‘নদী আমাদের জীবনের মতোই। যত্ন না নিলে, ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। নদীর বাস্তুতন্ত্র আমাদের রক্ষা করতেই হবে। না হলে নদী আমাদের অস্তিত্ব মুছে দেবে। আমি একা এই অভিযানের অংশ নই। নদী আন্দোলনের কর্মীরাও অভিযানে সমান ভাবে সক্রিয় রয়েছেন।’

এ রাজ্যের বিজ্ঞানমঞ্চ এবং নদী বাঁচাও-জীবন বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা একজোট হয়ে মানুষকে সচেতনতার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবেশ কর্মী সঞ্জয় দাস বলেন, ‘এই যাত্রাপথে নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দাদের নদীর গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা হবে। গাঙ্গেয় শুশুক সহ জলজ জীব-বৈচিত্র্য, শাখা এবং উপনদী, খাল নিয়ে মতের আদান প্রদান চলবে।’

একই সুর শোনা গেল নদী আন্দোলনের কর্মী তাপস দাসের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘নদী মাতৃক রাজ্য বাংলা। এ কথা আমার সকলেই জানি। কিন্তু নদীকে বাঁচাতে সত্যিই কি কিছু করে থাকি আমরা ? বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িত নদী এবং খাল-বিল। নদীর নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। ভারতে ৬০৫টি নদীর দূষণে রোধে সরকার এবং পরিবেশকর্মীরা কাজ করে চলেছেন। আরও অনেককেই এই দায়িত্ব নিতে হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *