Mid Day Meal Scheme : মিড ডে মিলের রিপোর্ট পেশে এগিয়ে বাংলা, কে কোথায় দাঁড়িয়ে? – west bengal is one of the leading states in the country in terms of reporting on mid day meal


জয় সাহা
মিড ডে মিলে দুর্নীতি হয়েছে, এমনটা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি। রাজ্যের ওই শীর্ষ বিজেপি নেতার আরও দাবি, এটা নিয়ে সিবিআই তদন্ত হবে। শুভেন্দুর সুরে সুর মিলিয়ে মিড ডে মিলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারও। অথচ সম্প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারেরই প্রকাশিত একটি নির্দেশিকা বলছে, মিড ডে মিল বা পিএম পোষণ যোজনায় কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট দেওয়ার ভিত্তিতে দেশের যে রাজ্যগুলো এগিয়ে, তাদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ শাসিত মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, আপ শাসিত দিল্লি, কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রের কাছে মিড ডে মিলের রিপোর্ট পেশ করার ক্ষেত্রে বাংলার চেয়ে বেশ পিছিয়ে।

কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব প্রাচী পান্ডে এই ব্যাপারে রাজ্যগুলোকে রীতিমতো সতর্ক করে কড়া ভাষায় একটি নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছেন।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘এর থেকেই প্রমাণিত, শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি যা বলছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত। রাজ্যে মিড ডে মিলের সুষম বণ্টনে কোনও অসঙ্গতির জায়গা নেই। যারা হিসেব দেয় না, সেই উত্তরপ্রদেশ-সহ রাজ্যগুলোয় কেন্দ্রীয় দল তদারক করতে যায় না। সেখানে কেন তদন্তের কথাও ওঠে না?’
তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সিবিআই তদন্তের দাবি তোলায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের স্কুলগুলোর প্রধানশিক্ষকদের অনেকে। তাঁরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত হলে তাঁরা ‘সফ্‌ট টার্গেট’ হতে পারেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, মিড ডে মিলের দুর্নীতি আটকাতে নানা রকমের নজরদারি রয়েছে। রাজ্যগুলোকে দৈনিক, মাসিক ও বাৎসরিক রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হয়। একেবারে স্কুলস্তর থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা হয় রিপোর্ট। আবার স্কুলে প্রতিদিন ক’জনকে মিড ডে মিল দেওয়া হলো, তার হিসেব প্রধানশিক্ষকদের দুপুর ১২টার মধ্যে বিকাশ ভবনে এসএমএস করে পাঠাতে হয়। সেই হিসেবও পৌঁছয় কেন্দ্রের কাছে। কিন্তু কেন্দ্রেরই আক্ষেপ, বেশ কয়েকটি রাজ্য সেই হিসেব পাঠাতে গড়িমসি করছে। যার মধ্যে রয়েছে বিজেপি ও এনডিএ শাসিত একাধিক রাজ্য।

ওই সব রাজ্যকে অবিলম্বে ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এমনটা বলতে পারেনি। কেন্দ্রেরই নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এই রিপোর্ট পেশের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। ফলে,স্বভাবতই এটা নিয়ে তৃণমূল চেপে ধরছে বিজেপিকে। যদিও বঙ্গ-বিজেপির দাবি, রাজ্যের পাঠানো এই রিপোর্টের মধ্যে জল মেশানো রয়েছে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘কাগজে-কলমে রাজ্য সব সময়ে এগিয়ে। মনে নেই, একশো দিনের কাজের এমন হিসেব দেওয়া হয়েছিল যে, উত্তরবঙ্গে চলে গিয়েছিল মন্দারমণি আর দক্ষিণবঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা!’

এই রাজনৈতিক চাপান-উতোরের মধ্যে আতান্তরে পড়েছেন বহু প্রধানশিক্ষক। স্কুলে মিড ডে মিলের যাবতীয় দায়িত্ব রয়েছে মূলত প্রধানশিক্ষকদের উপরেই। নামমাত্র বরাদ্দে (প্রাথমিকে ৫.৪৫ টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে ৮.১৭ টাকা) পেট ভরে খাবার, রান্নার তেল-মশলা-ডাল-আনাজপাতি কেনা সামলানো যায় না। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই বহু প্রধানশিক্ষক দৈনিক উপস্থিতির হার বাড়িয়ে দেখান। পশ্চিমবঙ্গ প্রধানশিক্ষক সমিতির তরফে কৃষ্ণাংশু মিশ্রর বক্তব্য, ‘মিড ডে মিল আসলে একটা ফাঁদ। এই কারণে আমরা বলছি, প্রধানশিক্ষকদের এর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed