West Bengal Electricity Bill : ফিক্সড ডিপোজিটের টাকাও গায়েব! বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে বড়সড় সাইবার প্রতারণা বজবজে – west bengal electric bill payment cyber fraudulent allegation at diamond harbour


আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে? এই একটা বাক্য ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মনে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তির আজ্ঞা পালন করতে শুরু করেন তিনি। অনলাইনে একটার পর এক ধাপ এগতেই জড়িয়ে পড়েন প্রতারণার জালে। বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া অনলাইনে মেটাতে গিয়ে সংগীত শিল্পীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে গায়েব প্রায় ৯ লাখ টাকা। ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এলাকায়।

বর্তমান যুগে নগদে লেনদেনের পরিবর্তে অনলাইনেই লেনদেন বেশি করা হয়। কিন্তু সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা এই অনলাইন লেনদেনে করতে গিয়ে তাঁদের নিজেদের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করেন, যার ফলে খোয়াতে হয় তিল তিল করে জমানো সঞ্চিত অর্থ। আপনার আমার এই ছোট ছোট ভুলকে কাজে লাগিয়েই সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রাখা গচ্ছিত অর্থ নিমেষেই গায়েব করে দেয়। এমনই এক প্রতারণার শিকার হয়েছেন তথ্য সংস্কৃতি দফতরের অস্থায়ী শিল্পী তথা গানের শিক্ষক কল্যাণ দাস।

বজবজ ২ নম্বর ব্লকের নোদাখালী থানার অন্তর্গত রায়পুরের বাসিন্দা কল্যাণ বাবু তাঁর নিজের মা, স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন কারণে তিন মাসের বকেয়া পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদের সংযোগকারী বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারার জন্য তাঁকে কোন এক ব্যক্তি ফোনে যোগাযোগ করেন এবং এই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া না হলে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে বলা হয়। সেই মতই পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদের লোগো দেওয়া ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ৫ই নভেম্বর কল্যাণ বাবুকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়।

ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রক্রিয়া পেরিয়ে সব শেষে বলা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ অক্ষুন্ন রাখার জন্য তিন টাকা পেমেন্ট করুন এবং আপনার মোবাইলে যাওয়া ওটিপি আমাকে শেয়ার করুন। সেই ওটিপি ওই ব্যক্তিকে শেয়ার করা মাত্রই নিমিষেই গায়েব হয়ে যায় ফিক্সড ডিপোজিট সহ সেভিংস একাউন্টের সব টাকা। আর এখানেই প্রশ্ন সেভিংস একাউন্টের টাকা গায়েব হলেও ব্যাংকের কোন নজর দাড়ির অভাবে এবং কল্যাণ বাবুর সম্মতি ছাড়াই ফিক্সড ডিপোজিট এর টাকাও গায়েব হয়?

Cyber Crime : সাইবার প্রতারণার শিকার বিধানসভার মুখ্য সচেতকের প্রাক্তন সুরক্ষা কর্মী! ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব লাখ লাখ টাকা
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কল্যাণ বাবুকে জানিয়েছেন, “আপনিই আপনার টাকা তুলে নেওয়ার অনুমতি ওই ব্যক্তিকে ওটিপি শেয়ার করার মাধ্যমে দিয়েছেন।” শুধুমাত্র এই অজুহাতেই সাতগাছিয়ার বাখরাহাটের ওই রাষ্ট্রয়াত্ত শাখার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং নোদাখালী থানা কোন প্রকার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানায় অনলাইনের মাধ্যমে এই ব্যাংক প্রতারণার ঘটনার অভিযোগ ৫ই নভেম্বর জানালেও এফ আই আর(FIR) গ্রহণ হয় ১৮ই নভেম্বর। যদিও, এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা ফেরত পাননি বলে দাবি ওই ব্যক্তির। তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *