Calcutta High Court : পিতৃ-সম্পত্তির ক্ষতিপূরণে প্রাপ্য চাকরিতে হক বিবাহিত কন্যারও – calcutta high court rejected state argument that a married girl is not a member of family


এই সময়: বিবাহিত মেয়ে পরিবারের সদস্য নয়, রাজ্যের এই যুক্তি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের ফলে জমিহারা হিসেবে বিশেষ কোটায় বিবাহিত মহিলাকে চাকরি দিতে সিঙ্গল বেঞ্চ এক দশক আগে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা বহাল থাকল। এক দশকের লড়াইয়ে জয় পেলেন বীরভূমের রেখা পাল।

শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন খারিজ করতে গিয়ে জানিয়েছে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করলেও রাজ্য সরকারের তরফে দীর্ঘসূত্রতা ও মামলা ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা অত্যন্ত আপত্তিকর। ১০ বছর আগে তৎকালীন বিচারপতি অশোক দাস অধিকারী পিতৃ-সম্পত্তির ক্ষতিপূরণে প্রাপ্য

চাকরিতে বিবাহিত মহিলার অধিকার নিয়ে বলেছিলেন, বিবাহবিচ্ছিন্না বা বিধবা যদি পরিবারের সদস্যের মর্যাদা পেতে পারেন, তবে বিবাহিতও সেই অধিকারের যোগ্য। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের ২০১৪-র সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ডিভিশন বেঞ্চে। তবে শুনানিতে দিনের পর দিন সরকারি কৌঁসুলি গরহাজির থাকায় সরকারপক্ষ মামলা চালাতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ দিন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের ফলে ২০১২-র ১২ অক্টোবর জারি পিতৃ-সম্পত্তির ক্ষতিপূরণে প্রাপ্য চাকরি নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার গ্রহণযোগ্যতা আর রইল না। বীরভূমের রেখা পালের বাবার জমি বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যে অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য সরকার। সম্পত্তির ক্ষতিপূরণে বিশেষ কোটায় চাকরির আবেদন করেন রেখা।

Calcutta High Court : ত্রিফলা দুর্নীতিতে বিদ্ধ জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ, কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত কলকাতা হাইকোর্টের
কিন্তু রাজ্য সরকার ২০১২-র বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, বিবাহিত মেয়ে বিশেষ কোটায় চাকরির অধিকারী নন। মামলা হলে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি দাস অধিকারী জানিয়ে দেন, সরকার ছেলে-মেয়ে বিভেদ করতে পারে না। বিবাহিত ছেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিই প্রযোজ্য হবে বিবাহিত মেয়ের ক্ষেত্রেও।

আদালত রাজ্যকে চার সপ্তাহের মধ্যে রেখাকে ক্ষতিগ্রস্ত চিহ্নিত করে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য। রেখার আইনজীবী আশিস চৌধুরীর বক্তব্য, এটা রাজ্যের তরফে লিঙ্গ-বৈষম্যের চেষ্টা। এটা সংবিধান-বিরোধী। বাবার মৃত্যুর পর থেকে বিধবা মায়ের দেখাশোনার দায়-দায়িত্ব পালন করেছেন মেয়েই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *