Bardhaman Station : ‘স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিক, টাকা লাগবে না’, রেলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু মৃত মফিজার স্বামীর – abdul mofiz resident of bardhaman complained that he lost his wife in the accident


এই সময়, বর্ধমান: ‘পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে রেল আমাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিক, টাকা লাগবে না।’ বর্ধমান স্টেশনে বুধবারের দুর্ঘটনায় স্ত্রী মফিজা খাতুনকে হারিয়ে এমনই অভিযোগ করলেন বর্ধমান শহরের লাকুর্ডির বাসিন্দা আব্দুল মফিজ শেখ। স্ত্রীর অকালমৃত্যুর জন্য ভেঙে পড়া জলের ট্যাঙ্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মী থেকে রেলের আধিকারিকদের দায়ী করে বর্ধমান জিআরপি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে বর্ধমান জিআরপি স্টেশনের ওসি চিন্তাহরণ সিনহা বলেন, ‘আব্দুল মফিজের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কেসটি পাঠানো হয়েছে বর্ধমান সিজেএম আদালতে। এবার আদালত থেকে যেমন নির্দেশ আসবে তেমনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গিয়েছে, বুধবার দুর্ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ আগে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্টেশনে এসে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শেডের নীচে বসেছিলেন আব্দুল। আচমকা জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে প্ল্যাটফর্মের ছাউনির উপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মফিজার। বর্তমানে মাথায় আঘাত নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল। তিনি বলেন, ‘শেড ভেঙে পড়তেই মাথায় আঘাত লাগে। আমি ছিটকে পড়ে যাই। আমাকে ওখান থেকে পুলিশ তুলে এনে মেডিক্যালে ভর্তি করে। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আমি স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ করলে আমাকে বলা হয়, স্ত্রী মারা গিয়েছে।’

তাঁর অভিযোগ, ‘এ ভাবে অকালে স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য রেলের লোকেরাই দায়ী। সকালে আমরা যখন স্টেশনে ঢুকেছি তখনও ওই ট্যাঙ্ক থেকে জল পড়ছিল। রক্ষণাবেক্ষণ যে হতো না সেটা পরিষ্কার। পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে রেল। আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিক, টাকা লাগবে না আমাদের।’ এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের সিপিআরও কৌশিক মিত্রর প্রতিক্রিয়া, ‘আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। বৃহস্পতিবার থেকে তদন্তে নেমেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সেই রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘৫ লাখ টাকা তো মানুষের জীবনের দাম হতে পারে না। এর দায় অবশ্যই কেন্দ্রকে নিতে হবে।’ বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা-র বক্তব্য, ‘অভিযোগকারীকে ভুল বোঝানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কোনও মৃত্যুকে খাটো করে দেখায় না। একজন মানুষের চলে যাওয়ায় যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, এই ক্ষতিপূরণ সেটাকে কিছুটা ভরাট করে। অনেকটা সেফটি ভাল্বের মতো।’

এর পাল্টা জবাবে তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আব্দুল মফিজ তাঁর স্ত্রীর অকাল প্রয়াণে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেখানেও বিজেপি নেতারা সেফটি ভাল্বের তত্ত্ব আওড়াচ্ছেন। রেলের দুর্ঘটনার তদন্ত রেলই করবে? কেন এত বড় ঘটনায় সিবিআই তদন্ত করা হবে না?’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘২০২০-র ৪ জানুয়ারি বর্ধমান স্টেশন ভবনের সামনের কাঠামো ভেঙে পড়ার রিপোর্ট জনসমক্ষে এসেছে?

এটাও একই ভাবে চাপা পড়ে যাবে।’ বৃহস্পতিবার কালনায় ইনসাফ যাত্রায় এসে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘রেলের গাফিলতিতেই এই ঘটনা। রেলকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ করার ফল এই ঘটনা। রেলের যত দুর্ঘটনা তা শুধুমাত্র রেলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ না-হওয়া, ওভারটাইম করানো, ঠিকাকর্মী নিয়োগ করা এসবের কারণে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed