Best picnic spot in West Bengal : কুলিক পক্ষীনিবাস সহ সেরা ডেস্টিনেশনগুলিতে পিকনিক বন্ধ! নয়া নির্দেশ বন দফতরের – north dinajpur forest department will not allow picnic in kulik bird sanctuary baharail forest


জেলায় বনভোজন ‘নিয়ন্ত্রণ’ করল উত্তর দিনাজপুর জেলা বন দফতর। রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাস সংলগ্ন এলাকা, হেমতাবাদের বাহারাইল ফরেস্ট এলাকা, কালিয়াগঞ্জের ধামজা ফরেস্ট সংলগ্ন এলাকায় মূলত ডিসেম্বর মাসে বনভোজনের হিড়িক দেখা যায়। কিন্তু, এই বছর বন দফতরের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত পোস্টার ও নির্দেশিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার জেরে বনভোজনে উৎসাহী সাধারণ মানুষদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শীত মানেই বনভোজন, তাই সাধারণ মানুষের দাবি বন দফতর যদি বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে তা তাঁদের ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হয়।

উত্তর দিনাজপুর জেলা সদর রায়গঞ্জ শহর থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরেই রয়েছে আবদুলঘাটা, ভট্টদীঘি, সোহারই। এই তিনটি মৌজার প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে কুলিক পক্ষীনিবাস। প্রতি বছর জুন মাস থেকে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে শামুকখোল, ইগ্রেট, করমরেন্ট, নাইট হেরন সহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক পরিযায়ী পাখীর দল এই কুলিক পক্ষীনিবাসে আসে। যা দেখতে দূর দূরান্তের বহু পর্যটকের ডেস্টিনেশন হয়ে ওঠে রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাস।

অপরদিকে শীত পড়তেই ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিউ ইয়ারের সময় ভট্টদীঘি, শিয়ালমনি, আবদুলঘাটা, মনিপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে শুধু স্থানীয়রাই নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা, এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও প্রচুর মানুষ পিকনিক করতে আসেন। শুধু রায়গঞ্জই নয়, হেমতাবাদ ও কালিয়াগঞ্জের বাহারাইল ও ধামজা ফরেস্ট এলাকাতেও পিকনিক করার জন্য ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। তবে এবারে বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে পিকনিক বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা বন বিভাগ। বিভাগীয় বন আধিকারিক দাওয়া সাংমু শেরপা জানান, এই বছর উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রতিটি বনাঞ্চলে পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কুলিক, আব্দুল ঘাটা, শিয়ালমনি, ধামজা, বাহারাইল সহ একাধিক বনাঞ্চলে ‘পিকনিক নট অ্যালাও’পোস্টার ঝোলানো হয়েছে। এর নেপথ্যে বন আধিকারিকের ব্যখ্যা, বর্তমানে শুষ্ক আবহাওয়া রয়েছে। এর মধ্যে বনাঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করলে যে কোনও মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এমনিতেই সেখানে বনভূমি কম। ৬০০ হেক্টর জমিতে রয়েছে বনাঞ্চল। যেসব জায়গা ফাঁকা হয়েছে সেখানে বনসৃজন করা হয়েছে। তাই বন সংরক্ষণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে মানুষ চাইলে ঘুরতে আসতেই পারেন। কিন্তু ‘পিকনিক’ বলতে আক্ষরিক অর্থে যা বোঝায় সেই কর্মসূচি পালন করা যাবে না।

এদিকে বনবিভাগের এই সিদ্ধান্তে হতাশ রায়গঞ্জের মানুষজন। তারা জানান, এমনিতেই রায়গঞ্জ কিংবা জেলায় সেভাবে ঘোরার জায়গা নেই। তার মধ্যে এই সিদ্ধান্তের জেরে তাঁরা বেশ অসন্তুষ্ট। পিকনিক করতে না দিলে পর্যটকের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবসায় ক্ষতি হবে বলেও আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। বনবিভাগের এই সিদ্ধান্তে মর্মাহত পরিবেশ ও পশুপ্রেমী গৌতম তান্তিয়া। এই সিদ্ধান্ত পুর্নর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Howrah Picnic Spot : পর্যটকদের সুবিধায় গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে বৈঠক! পিকনিকে ডিজে নয়, নিষিদ্ধ থার্মোকলও
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বন দফতরের আধিকারিক দাওয়া সাংমু শেরপা বলেন, ‘উত্তর দিনাজপুরে অনেক কম বনাঞ্চল রয়েছে। তা রক্ষা করতে হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *