Rashid Khan : রাশিদ খানকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন পণ্ডিত ভীমসেন যোশী – ustad rashid khan death was big loss to indian classical music says pandit sujit gangopadhyay


দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া

‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন… অচিরেই চলে গেলেন। এটা সঙ্গীত জগতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শোক প্রকাশের ভাষা নেই। ভাষা নেই পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার।’ কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী উস্তাদ রাশিদ খানের অকাল প্রয়াণে ভারাক্রান্ত গলায় এমনই প্রতিক্রিয়া বিষ্ণুপুর রামশরণ সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের।

বছর ৭১-এর বিষ্ণুপুর ঘরানার এই বর্ষীয়ান শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী বলেন, ‘উস্তাদ রাশিদ খান আর নেই এটা ভাবতে পারছি না। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। পণ্ডিত ভীমসেন যোশী বলেছিলেন, রাশিদ খান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ। এত বড় সার্টিফিকেট ভারতরত্ন ভীমসেন যোশী তো এমনি এমনি দেননি। তাঁর মধ্যে যথেষ্ট কোয়ালিটি ছিল। এক জন পূর্ণাঙ্গ গায়কের মধ্যে যা যা গুণ থাকা দরকার, সবই রাশিদ খান সাহেবের মধ্যে ছিল। এরকম গলা একশো বছরেও এসেছে কিনা সন্দেহ।’

যোগ করছেন, ‘উনি শুধু গলার ওস্তাদি দেখাতেন তা নয়, তাঁর গানের ভাব মানুষকে মোহিত করত। রাগের ভাবকে তিনি এমন পরিচ্ছন্ন ভাবে প্রকাশ করতে পারতেন যেটা খুবই দুর্লভ এবং শিক্ষনীয়। তাছাড়া গান পরিবেশন করার, মানুষকে আকর্ষণ করারও একটা ক্ষমতা ছিল ওঁর মধ্যে। গান আরম্ভ করলেই মানুষ তাঁর দিক থেকে চোখ সরাতে পারতেন না।’

পণ্ডিত ভীমসেন যোশীর পর রাশিদ খানই তাঁর প্রিয় শিল্পী জানিয়ে সুজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ভীমসেন যোশীর পাশে বসেও অনেক গান গেয়েছেন রাশিদ খান। আমার মনে হয়েছে, ভীমসেন যোশীর পাশে বসে গাওয়ার জন্য যে যোগ্যতা দরকার তা ওঁর মধ্যে ছিল। প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন উনি। খুব কম বয়সেই উনি অনুষ্ঠান করে মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। খুব কম বয়সেই খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। এত কম বয়সে ওঁর চলে যাওয়া হিন্দুস্তানি ক্লাসিক্যাল মিউজিকে বিরাট বড় ক্ষতি বলে আমার মনে হয়।’

তোরে বিনা মোহে…, আজ গান স্যালুটে বিদায় উস্তাদকে
সঙ্গীতের এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘এখনও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। কিন্তু মানুষকে হতাশ করে উনি চলে গেলেন।’ সঙ্গীতনগরীতে রাশিদ খানের পরিবেশনা নিয়ে সুজিত গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বছর সাত-আট আগে বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যালে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান। তার পর গত ২০২২ সালের বিষ্ণুপুর মেলাতেও এসেছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই কিংবদন্তি শিল্পী। সামনে থেকে ওঁর গান শুনেছিলাম। মেলার উদ্বোধনের রাতেই তাঁর গান মুগ্ধ করেছিল অগনিত মানুষকে।

—পণ্ডিত ভীমসেন যোশী বলেছিলেন, রাশিদ খান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ। এত বড় সার্টিফিকেট ভারতরত্ন ভীমসেন যোশী তো এমনি এমনি দেননি— সুজিত গঙ্গোপাধ্যায়



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *