Kolkata Book Fair 2024 : ১০ না ২০? বইমেলার ডিসকাউন্ট-ডিবেট সোশ্যাল মিডিয়াতেও – kolkata book fair how percentage discount will be given on books started debate


দশ শতাংশ নাকি কুড়ি!

শুরুর আগেই এই শতাংশের হিসেব নিয়ে মাছ বাজারের মতো বিতর্কে জড়িয়ে গেল কলকাতা বইমেলা। আগামী ১৮ তারিখ সল্টলেকের করুণাময়ীর মাঠে ৪৭তম কলকাতা পুস্তকমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা চলবে ৩১ তারিখ পর্যন্ত। তার ঠিক তিনদিন আগে বিক্রিত বইয়ের উপর কত শতাংশ ডিসকাউন্ট বা ছাড় দেওয়া হবে না নিয়েই শুরু হয়েছে তরজা।

আর এই ইস্যুতে পাঠকদের মধ্যেই কার্যত আড়াআড়ি হয়ে গিয়েছে দুটি দল। একদল দাবি তুলেছে, পাঠকদের চাহিদা এবং পকেটের কথা মাথায় রেখে ডিসকাউন্টের পরিমাণ ২০ শতাংশ করা হোক। অন্যপক্ষের বক্তব্য, বইমেলা মাছের বাজার নয়, তাই নিয়ম মেনে দশ শতাংশ রাখা হোক। রবিবার রাত থেকে এই তরজার রেশ আছড়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

বিতর্ক কেন? পাঠকদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতা বইমেলায় বিভিন্ন স্টল থেকে বই কেনার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। এটা বহুদিন ধরে চলে আসা নিয়ম। গিল্ডের দাবি, ‘যখন বিক্রেতাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয় সে সময়ে শর্তাবলির তালিকায় এটা স্পষ্ট বলা থাকে। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বই সংক্রান্ত বিভিন্ন পেজের পাঠকদের জন্য অনেক প্রকাশনী সংস্থা কেউ ২০, তো কেউ ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্টের অফার দিচ্ছে। যা নিয়মবিরুদ্ধ।’

ঘটনা হলো, বইমেলা শুরুর প্রায় সাতদিন আগে থেকে দীপ প্রকাশন সহ প্রায় ২০টি প্রকাশনা সংস্থা ২০ শতাংশ থেকে আরও বেশি ছাড় দেওয়ার কথা নিজেদের পেজে ঘোষণা করে দেয়। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন বইসংক্রান্ত পেজের সদস্যরা স্ক্রিনশট দেখালে এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন। বইপ্রেমীদের অনেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানান। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় রবিবার রাত থেকে। গিল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বই বিক্রির সময়ে দশ শতাংশের বেশি ছাড় কোনও মতেই দেওয়া যাবে না।

গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অন্য কোনও পণ্যের সঙ্গে বইকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। এটা আন্তর্জাতিক মেলা, সেটাও ভুলে গেলে চলবে না। কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড় ঘোষণার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। মেলার বিশুদ্ধতা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অর্থাৎ দশ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্ট দেওয়া যাবে না।’

এই বিতর্কে মতামত জানতে দীপ প্রকাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে পাঠকের একাংশ আবার এই ডিসকাউন্ট দেওয়ার পক্ষেও রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘১৮ তারিখে মেলা শুরু। তখন মাসের মাঝামাঝি। ফলে ডিসকাউন্ট থাকলে বেশি করে বই কেনা যেত। গিল্ড বইমেলায় তবে অত খাবারের দোকানের অনুমতি কেন দেয়? দেখে মনে হয় ওটা যেন মিনি খাদ্যমেলা।’

Kolkata Book Fair 2024 : বাস-অ্যাপ ক্যাবের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা, জেনে রাখুন এবারের বইমেলার খুঁটিনাটি
অনেক নেটিজেনই মন্তব্য করেছেন, ‘এমনিতে বইবিক্রি কমে গিয়েছে। সেখানে উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে এমন সিদ্ধান্ত মেলার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেবে।’ বইপাড়ার সবচেয়ে বয়স্ক প্রকাশক মিত্র অ্যান্ড ঘোষ পাবলিশার্সের সবিতেন্দ্রনাথ রায়ের কথায়, ‘সব মানছি। কিন্তু গিল্ডের যখন নিয়ম রয়েছে, তা সকলের মেনে চলা উচিত।’ প্রকাশনা সংস্থা বুকফার্মের অন্যতম কর্ণধার শান্তনু ঘোষের বক্তব্য,‘মেলায় অংশ নিতে যা খরচ, তাতে আমরাও বেশি ডিসকাউন্ট দেওয়ার পক্ষে নই।’

অন্যদিকে, বইপ্রেমীদের গ্রুপ মলাটের পক্ষে বিনীতা চট্টোপাধ্যায় এবং মিতু মিত্র বলেন, ‘ফেসবুক গ্রুপগুলোর সঙ্গে পাঠকদের একটা মানসিক যোগ থাকে। গ্রুপের মেম্বার হিসেবে ছাড় পেলে বই কেনায় উৎসাহ পান তাঁরা। পাঠকের স্বার্থই একমাত্র বিবেচ্য আমাদের কাছে। তাই প্রকাশক যদি স্বেচ্ছায় কোনও বিশেষ ছাড় দিতে চান তা সবসময়েই স্বাগত। এবারে বেশি ছাড় পাওয়া যাবে না জেনে গ্রুপের সদস্যদের অনেকেই হতাশ।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *