উল্লেখ্য, একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়ার দাবিতে রেড রোডে ধরনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন, তখনই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবের সঙ্গে বৈঠক সারেন রাজ্যপাল। রাজ্যের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র – রাজ্য দুই পক্ষের ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক যথেষ্ট আশাপ্রদ এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই জানালেন রাজ্যপাল।
কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে রাজ্যপাল জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবের সঙ্গে রাজ্যের বকেয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বৈঠক করলাম। খুবই সদর্থক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নিজে খুবই আগ্রহী বিলম্ব না করে বাংলার মানুষের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে।’
রাজ্যপাল জানান, কিছু নিয়ম-নীতির কারণে রাজ্যের বকেয়া মেটানোয় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। রাজ্যের তরফেও প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেতু বন্ধন’ এর কাজ করার জন্যেই তিনি এই বৈঠক করেছেন, বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই মত তাঁর। প্রসঙ্গত, ধরনা শুরু আগেই জল জীবন মিশন প্রকল্পে রাজ্যকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘আমি একজন মিডিয়াম মাত্র। এটা সবে শুরু। এরপর আরও ভালো খবর আসতে চলেছে।’
প্রসঙ্গত, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও আর্থিক সাহায্য করছে না। আরও একাধিক প্রকল্পের বকেয়া পাওনা রয়েছে রাজ্যের। এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার থেকে কলকাতায় ধরনা শুরু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনা আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসেই বকেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য তৃণমূল সাংসদরা। দুই তরফে যৌথ কমিটি গঠন করে এই সমস্যার নিরসনের কথা বলা হলেও জট এখনও কাটেনি। রাজ্যপালের মধ্যস্থতায় বকেয়া নিয়ে জট কী কাটবে, সেটা জানাটা সময়ের অপেক্ষা।
