Solo Trip : সোলো ট্রিপের নামে টার্গেটেড চিটিং! – cyber crime fraud are rise in name of solo trip offers


হিমাদ্রি সরকার

আপনি কী সোলো ট্রিপে যেতে চান? তাহলে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, গোয়া বা লক্ষদীপ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ নিন। খরচ নাম মাত্র। প্যাকেজের সুবিধা আছে। ফোনে এরকম কোনও বার্তা পেলে নিশ্চিত লাফিয়ে উঠবেন অনেকেই। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলা তথা গোটা দেশেই সোলো ট্রিপ করতে যাওয়া ভ্রমণপ্রেমীদের সংখ্যা বাড়ছে।

তাই তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধাযুক্ত প্যাকেজের ফোন পেলে লাফিয়ে ওঠারই কথা। কিন্তু মহিলা কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভের সুললিত কণ্ঠে ঠিক এই রকম একটা অফার পেয়ে চণ্ডীগরের এক ব্যক্তি সাড়া দিয়েছিলেন। হিমাচলে সোলো ট্রিপে যাওয়ার জন্য বিমান ভাড়া, পাঁচ তারা হোটেলে থাকা বা যাতায়াতের গাড়ি ভাড়ার প্যাকেজ শুনে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলেন ওই ব্যক্তি।

অনলাইনে সার্চ করে তিনি দেখেছিলেন এই সোলো ট্রিপে যে অফার দেওয়া হচ্ছে, তা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। সেই মতো কয়েক দফায় খরচা দিয়ে ফেলেছিলেন অনলাইনে–এমনকি নেক্সট ট্রিপের প্ল্যান করে তারও অ্যাডভান্স করে দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে হিমাচলে বেড়াতে গিয়ে নির্দিষ্ট পাঁচ তারা হোটেলে গিয়ে দেখলেন সেখানে তাঁর নামে কোনও ঘরই বুক নেই। ওই কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলেন, সেই নম্বরের কোনও অস্তিত্বই নেই।

বুঝলেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। এই ঘটনায় কিছুদিন আগেই কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে চন্ডীগড় পুলিশ। সেখান থেকেই তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি দেশ বিদেশের বিভিন্ন ডেস্টিনেশনে বেড়াতে যাওয়া লোকজনের ডেটা চুরি করেছিল। তারপরে সেই ডেটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে কাটাছেঁড়া করে মোটামুটি বেশি আয় করেন তেমন কাস্টমারদের টার্গেট করে।

কেউ কেউ সেই ফাঁদে পা দিয়ে মোটা টাকাও খুইয়েছেন। আর এক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ বলে ব্যবহার করা হয়েছিল কলকাতার একটি মেসে থাকা মহিলা পেয়িং গেস্টদের। যাঁদের সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু তাঁরাও প্রতারণার কারবার সম্পর্কে কিছু জানতেন না।

Five Star Hotel : ব্যাঙ্কে পড়ে ৪১ টাকা, পাঁচাতারা হোটেলে বিল ৬ লাখ! দিল্লির মহিলার কাণ্ডে চক্ষু চড়কগাছ
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোন করে টাকা হাতানোর নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে অনলাইন প্রতারকরা। কিন্তু ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি অথবা বিদ্যুতের বিল দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বেছে নেওয়া হতো ৱ্যান্ডমলি। অর্থাৎ কোনও বাছবিচার না করে। এক্ষেত্রে সোলো ট্রিপের কাস্টমারদের বাছা হচ্ছে নির্দিষ্ট টার্গেট গ্রূপ ঠিক করে, তারপরে নির্দিষ্ট মোডাস অপারেন্ডি ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।

তাঁদের ডেটা যাতে প্রতারকদের হাতে এসে না পড়ে, সেজন্য অনলাইনে ট্রিপ ডেস্টিনেশন সার্চিং অথবা ট্রিপ বুকের সময়ে যেন অনলাইনে যে কোনও সাইটে নিজের ব্যক্তিগত ডেটা যেমন বয়স, বার্ষিক আয়, কোন কোম্পানিতে কাজ করেন, গাড়ি বাড়ি আছে কী না এমন সব তথ্য দিয়ে দেবেন না। তা নাহলে কে বলতে পারে পরের টার্গেট আপনিই হবেন না?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *