Trinamool Congress : ছায়াসঙ্গী মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে, পরে ঢোকে আততায়ী – police arrest main accused of tmc leader shot dead at guma north 24 parganas


এই সময়, গুমা: উপপ্রধান খুনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তুহিন দত্ত। যে তুহিনের বাড়িতেই রবিবার রাতে আততায়ীর গুলিতে খুন হন গুমা-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিজন দাস। যে সময়ে বিজন খুন হন, তখন সপরিবারে পাশেই একটি নেমন্তন্ন বাড়িতে খেতে গিয়েছিলেন তুহিন। তাঁর বাড়িতে উপপ্রধানকে আততায়ী গুলি করে পালিয়েছে শুনে হন্তদন্ত হয়ে চলে আসেন।বিজনকে যাঁরা হাসপাতালে নিয়ে যান, সেই দলেও ছিলেন উপপ্রধানের বিশ্বস্ত সঙ্গী তুহিন। পরে সেই তুহিনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তুহিন নেমন্তন্ন বাড়ি যাওয়ার আগে বিজনকে প্রচুর মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে যান। পরে তুহিনদের ফাঁকা বাড়ির একতলার ঘরে অচৈতন্য বিজনকে গুলি করে পালান গৌতম দাস। গৌতম এখনও ধরা পড়েননি।

স্টেশন রোডে নিবেদিতা পল্লির পেল্লাই সাইজের বাড়িটাই গৌতম দাসের। দোতলা বাড়ির একতলায় বেশ কয়েকটি দোকান। অভিযোগ এই বাড়ির অধিকাংশই পিডব্লিউডির জায়গা দখল করে বানিয়েছিলেন জমির দালাল গৌতম দাস। গৌতমের সেই বেআইনি কাজে বাধা দিয়েছিলেন বিজন। কিন্তু সেই সময়ে পঞ্চায়েতে কোনও পদে ছিলেন না তিনি।

তাই গৌতমকে আটকাতে পারেননি। তবুও বিজন বিরোধিতার পথ থেকে সরেননি। আদালতে এ নিয়ে মামলাও হয়। এই নিয়ে বিজনের সঙ্গে শত্রুতা জন্মায় গৌতমের। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর গুমা-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হন বিজন দাস। উপপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গৌতমের বেআইনি কাজের বিরোধিতায় কোমর বেঁধে নামেন বিজন। সেই আক্রোশেই বিজনকে গুলি করে গৌতম খুন করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। রবিবার রাত থেকে গৌতমের আর খোঁজ নেই। তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

মূল অভিযুক্ত গৌতম দাস এখনও অধরা হলেও খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে অশোকনগর থানা। তার মধ্যে তুহিন দত্তের গ্রেপ্তারিতে হতবাক স্থানীয় লোকজন। সকলকেই জানতেন বিজনের ছায়াসঙ্গী তুহিন। রবিবার তৃণমূলের পিকনিকের পর সেই তুহিনের বাড়িতেই এসেছিলেন বিজন। তা হলে কী এমন হলো যে, উপপ্রধানকে খুনে জড়িয়ে গেলেন তাঁরই বিশ্বস্ত সঙ্গী?

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গৌতম সম্পর্কে তুহিনের পিসেমশাই। তুহিনের বিরোধিতায় বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন গৌতম। প্রচুর টাকা খরচ করে বাড়ি বানিয়েছিলেন। অথচ যে জমিতে বাড়ি তা নিয়েই মামলা চলছিল। পিসেমশাইয়ের পাশেই দাঁড়ান তুহিন। পুলিশের দাবি, সেই মতো খুনের পরিককল্পনা হয়। তুহিন নিজের বাড়িতে বিজনকে নিয়ে আসেন। তারপর মদ খাইয়ে বেহুঁশ করেন।

এরপর গৌতমকে যাতে কেউ দেখতে না পায়, তাই বাড়ির সকলকে নিয়ে বেরিয়ে যান। গৌতম রাত এগারোটা নাগাদ তুহিনের বাড়ি এসে বিজনকে গুলি করে খুন করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গৌতম যখন বেরোচ্ছিলেন, তখন উল্টো দিকের বাড়ির একজন তাঁকে দেখে ফেলেন। তিনিই পুরে পুলিশকে জানান, রাতে তুহিনের বাড়িতে এসেছিলেন গৌতম।

এই খুনের তদন্তে ধৃত আর একজন হলেন পলাশ শর্মা। ইনিও সম্পর্কে গৌতমের আত্মীয়। নিহত উপপ্রধানের মেয়ে কোয়েনা দাস এ বছর সিবিএসসি দ্বাদশের পরীক্ষা দিচ্ছে। কোয়েনার দাবি, ‘বাবা অন্যায় দেখলেই বিরোধিতা করত। পঞ্চায়েতের প্রধান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ জমির দালাল গৌতম দাসের সঙ্গেও বিরোধ ছিল বাবার। এই নিয়ে দলের মধ্যেই রোষের মুখেও পড়তে হয়েছিল বাবাকে। বাবা সে কথা আমাদের জানিয়েছিল।’

Trinamool Congress : গুমায় শ্যুটআউট, তৃণমূলের উপপ্রধানকে বাড়িতে ঢুকে খুন

কোয়েনা গুমা-১ পঞ্চায়েতের প্রধান জেসমিন সাহাজি ও তাঁরর স্বামী সাদিক সাহাজি-হ ছ’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। গুমা -১ পঞ্চায়েতের প্রধান জেসমিন সাহাজি বলেন, ‘অভিযোগে যে কেউ করতেই পারেন। পুলিশ তদন্ত করছে। মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রধান হিসেবে আমার কাছে অনেকেই আসেন। তাই বলে গৌতম দাস আমার ঘনিষ্ঠ তা নয়।’

বিজনের বাবা বিমলভূষণ দাস বলেন, ‘পঞ্চায়েতে ভালো কাজের জন্য ছেলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিল। সেই ছেলেকেই ওরা খুন করে ফেলল।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *