এ ছাড়া পাড়ায় পাড়ায় নতুন প্রজন্মকেও সদস্য করা হয়েছে। দেবাঞ্জনের কথায়, ‘চলতি বছর ভাষা দিবসে সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়ায় আমরা ভাষাগত দিকও খেয়াল রেখেছিলাম। সাঁওতালি, কুড়মালি, নেপালি ও উর্দুতে সদস্যপদ গ্রহণের আবেদন করে ডকুমেন্ট প্রকাশ করা হয়। এতে পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের বিপুল সাড়া মিলেছে।’ দেবাঞ্জনের সংযোজন, ‘এই যে একটা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আমাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। আমরা জ়িরো। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আজকের পড়ুয়ারা বিকল্প হিসেবে বামপন্থীদেরই বেছে নিচ্ছেন।’
সংগঠনের রাজ্যস্তরের আর এক নেতা শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘সাত বছর ধরে তৃণমূল ছাত্র ভোট বন্ধ রেখেছে। এই বিপুল সংখ্যক সদস্য ভোটের দাবিতেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হল্লা-বোল করবেন।’ কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এত সংখ্যক সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সিপিএম বা বামপন্থীরা লোকসভা এবং বিধানসভায় শূন্য কেন?
শুভজিতের দাবি, ‘বিজেপি-তৃণমূলের ন্যারেটিভের বাইরে ছাত্র-যুবরা যে নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করছেন, তার জেরেই ফলাফল আর শূন্য থাকবে না। আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা করুন!’ এসএফআইয়ের এই সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আজকের ছাত্র-যুবরা নতুন করে বামপন্থীদের পুনরাবিষ্কার করছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যে যে দুই দল রয়েছে, তারা তাঁদের পড়াশোনা, পেশা এবং অধিকারের জন্য কিছুই করছে না। দুর্নীতি আর ভাষণবাজিতে অন্ধকারের দিকে তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে। সেটা বুঝতে পেরেই এত সংখ্যক নবীন বামপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’
যদিও এর পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘এতই যদি সমর্থন থাকে, তা হলে বামফ্রন্ট রাজ্যের ৪২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারল না কেন? এ সব বাতেলা দিলেই শুনতে হবে নাকি?’
