বীরভূমে দীর্ঘদিন অনুব্রত মণ্ডলের ভোট ম্যানেজমেন্টের জেরে তৃণমূলের দাপট অব্যাহত থেকেছে। কিন্তু পুরভোট অথবা পঞ্চায়েত ভোটে জোড়াফুলের যে মাত্রায় সাফল্য থাকে, লোকসভা নির্বাচনে কোনও কোনও পকেটে তার খামতি দেখা যায় বলে তৃণমূল নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ। সেই কারণে অভিষেক এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জেলার তৃণমূল নেতারা মনে করছেন।
এই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিষেক বলেন, ‘সাংগঠনিক ভাবে যতদিন যাচ্ছে, তৃণমূল শক্তিশালী হচ্ছে। বীরভূমে এ দিনের বৈঠকে যে সাড়া পেয়েছি, তাতে দু’টি আসনেই তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়বে। বোলপুর থেকেও বাড়বে, বীরভূম আসনেও বাড়বে।’
বৈঠকে চন্দ্রনাথ সিনহা, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ রায়চৌধুরী, কাজল শেখের মতো জেলার নেতারা ছিলেন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যাতে ভোটে ছাপ না ফেলে, তার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, তিনি বৈঠকে বলেন, ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলে ভোটের পর বসে মিটিয়ে নিন, কিন্তু ভোটে যেন তার প্রভাব না পড়ে।’
নির্বাচনী বৈঠকের পর অভিষেক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘জয়ের ব্যবধান বাড়বে। কোথাও যদি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকেও, তার জন্য এ দিন বৈঠক হয়েছে। দল ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী রয়েছে।’ অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমের সংগঠন পরিচালনা করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। বাছাই করা নেতাদের নিয়ে ইলেকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিষেক এ দিন বলেন, ‘অনুব্রত মণ্ডল যদি বিজেপিতে চলে যেত ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যেত। বিজেপিতে যায়নি, তাই জেল খাটছে। গোরু পাচার মামলায় অনুব্রতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু দশ দিন আগে মেমারিতে ইউপি-বিহার থেকে গোরু আসছিল, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তা ধরেছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সরকারে তৃণমূলের তো কোনও প্রতিনিধি নেই। বিশ মাস অনুব্রত জেলে, তারপরেও গোরু পাচার হচ্ছে।’
