কমিশনের অরিজিনাল অর্ডারের সঙ্গে ভুয়ো অর্ডারের খুব একটা ফারাক থাকছে না। অনেক সময় তাতে কমিশনের লেটারহেড, লোগো এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের সই ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি কমিশনের একটি ভুয়ো অর্ডার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে বলা হয়েছে, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না।
আর একটি অর্ডারে দাবি করা হয় যে, ভোট গণনা কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জিও এবং ভিআই টেলিকম সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই খবর পুরোপুরি ভুয়ো। এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত কমিশন নেয়নি। এই ধরনের ভুয়ো খবরে বিভ্রান্ত হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা কমিশনের অফিসে ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইছেন।
কেউ আবার মেল করছেন। যা নিয়ে ভোটের মুখে রীতিমতো জেরবার হতে হচ্ছে কমিশনকে। কমিশনের কর্তারা আশঙ্কা করছেন, ভোট প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই খুব পরিকল্পনা করেই ফেক নিউজ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ভাবে লোকসভা ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার আগেই কমিশনের একটি ভুয়ো অর্ডার বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেটা যে আদতে ভুয়ো খবর তা মানুষকে জানানোর জন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দিতে হয় কমিশনকে।
এই ধরনের ফেক নিউজের মোকাবিলায় মঙ্গলবার ‘মিথ ভার্সেস রিয়েলিটি’ নামে একটি নতুন মাইক্রো ওয়েবসাইট চালু করেছে কমিশন। যেখানে সব ধরনের ফেক নিউজ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হবে। তার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে নেমেছে কমিশন। সংবাদমাধ্যমকেও ফেক নিউজ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ভোটের সময়ে খবরের কাগজ কিংবা টিভি চ্যানেলে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ছাপার বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে কমিশন। এর জন্য জেলায় জেলায় মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোট প্রচারের জন্য কোনও প্রার্থী যদি সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ছাপতে চান তাহলে তাঁকে সেই কমিটির কাছ থেকে আগাম অনুমোদন নিতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিলেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। না হলে সেই বিজ্ঞাপনের খরচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনী খরচের সঙ্গে যুক্ত হবে।
