ব্যারাকপুরের লড়াইতে এবারেও অর্জুন
আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া ও ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের আলোচনায় যদি উঠে আসে দেবী ঘোষাল, তরিৎবরণ তোপদার বা দীনেশ ত্রিবেদীর নাম, তাহলে কোনওভাবেই এড়ানো যায় না এলাকার দাপুটে নেতা অর্জুন সিংয়ের প্রসঙ্গও। কেউ কেউ আবার তাঁকে বলেন ‘বাহুবলী’ নেতা। গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ময়দানের প্রতিটি ধূলিকণার সঙ্গে পরিচিত তিনি। কারও কারও মতে, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে জুটমিল শ্রমিকদের একটা বড় অংশের কাছে আজও অর্জুন সিং-ই ‘শেষ কথা’। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, অতি বড় বিরোধীও স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বীকার করতে পারবেন না অর্জুনের প্রভাব। সেই অর্জুন এবারেও রয়েছেন নির্বাচনী লড়াইতে।
ভোটের লড়াইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনই পরিচিত অর্জুন সিং। ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বেশকয়েকবারের বিধায়ক এবং ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিদায়ী সাংসদ তিনি। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর গত লোকসভা ভোটের আগে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তাঁকেই টিকিট দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। সেই ভরসার মান রেখেছিলেন অর্জুনও। হারিয়েছিলেন দু’বারের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। ৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন অর্জুন। যদিও পরে অবশ্য তৃণমূলে ফিরে আসেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় ফের পদ্মশিবিরে অর্জুন। আর অর্জুনকে পেয়ে ফের একবার তাঁর উপরেই আস্থা রেখেছেন জে পি নাড্ডা-সুকান্ত মজুমদাররা।
তৃণমূলের সৈনিক পার্থ
এদিকে তৃণমূলও অবশ্য কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত। তৃণমূলের তরফে মাঠে নামান হয়েছে তিনবারের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিককে। রাজনৈতিক কুশীলবদের বেশিরভাগেরই মত, এলাকায় জনপ্রিয়তা কম নয় পার্থরও। দীর্ঘদিন ধরে নৈহাটির বিধায়ক থাকা ছাড়াও গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতির সঙ্গে যথেষ্টই পরিচিত তিনি। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, ২০১৯ সালে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হলেও, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এলাকায় ভালো ফল করে তৃণমূল। বর্তমানে শুধুমাত্র ভাটপাড়া ছাড়া বাকি ছ’টি বিধানসভাই রয়েছে তৃণমূলের দখলে।
ময়দানে পরিচিত মুখ দেবদূতও
অন্যদিকে ব্যারাকপুরে লড়াইতে রয়েছে বামেরাও। এবারে ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস সমর্থিত বাম প্রার্থী অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। ব্যারাকপুরে লোকসভা কেন্দ্রের লড়াইতে তিনি নতুন হলেও রাজনীতির ময়দানে কিন্তু তিনি যথেষ্টই পুরনো। তাছাড়া অভিনেতা হওয়ার সুবাদে পরিচিত মুখ তিনি। সেক্ষেত্রে পার্থ-অর্জুন-দেবদূতের লড়াইয়ে ব্যারাকপুরের রথের রাশ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকে, সেটাই দেখার।
