Apple Cultivation,বাংলার মাটিতে পাহাড়ি আপেল, স্বাদেও অতুলনীয়, ‘মিরাকল’ মুর্শিদাবাদের শিক্ষকের – murshidabad teacher has cultivated 3 types of himachal pradesh apple in his own garden


বেলডাঙার মাটিতে হিমাচল প্রদেশের তিন প্রজাতির আপেল ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন স্কুল শিক্ষক রূপেশ দাস। বেলডাঙা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাছাড়িপাড়ায় বাড়ি সংলগ্ন দেড় কাঠা বাগানে আপেল ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি গাছ রয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগে হিমাচলের একটি ফার্ম থেকে অনলাইনে দশটি আপেল গাছের চারা এনে লাগিয়েছিলেন। বাগানে সাতটি আপেল গাছ রয়েছে। গত বছরই প্রথম ফল এসেছিল। তবে সংখ্যা ও ফলের সাইজ কম ছিল। এবার প্রায় ১৫ কেজি আপেল ফলিয়েছেন বেলডাঙা পূর্ব চক্রের নপুকুড়িয়া নতুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক রূপেশ দাস। আপেলের গুনমান নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করেছেন।

যত্ন নিতে হয় শিকড়ের

রূপেশ বলেন, প্রথম এক বছর আপেল গাছের পরিচর্যা করতে হয়। বিশেষ করে শিকড়ের যত্ন নিতে হয়। কারণ আপেল গাছের শিকড় মিষ্টি স্বাদের হয়। তাই পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এর বাইরে গাছের পরিচর্যায় জলের উপরও বিশেষ নজর রাখতে হয়। কাশ্মীরে আপেল চাষে অভিজ্ঞ পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে এনে সাগরদিঘিতে আপেল চাষ শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই উদ্যোগ খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। উষ্ণ ক্রান্তীয় জলবায়ুতে আপেল গাছ বেশিদিন বাঁচাতে পারেনি সাগরদিঘি ব্লক প্রশাসন। তবে এবার বেলডাঙায় সেই কাজ করে দেখালেন রূপেশ।

apple farming

বাগানে রূপেশ দাস

আপেলের স্বাদের প্রশংসা সকলের

ওই শিক্ষকের বাগানে সাড়ে তিন বছর বয়সের গাছগুলির উচ্চতা এখন প্রায় দশ ফুট। গত বছরই প্রতিটি গাছে অল্প সংখ্যক করে ফল এসেছিল। এবার তিনি ফুল আসার সময় থেকেই পরিচর্যায় বেশি করে নজর দিয়েছিলেন। এই বছর গাছে গাছে ফলের সংখ্যাও অনেকটাই বেশি। সাইজও বেশ বড় হয়েছে আপেলগুলি। এই প্রসঙ্গে রূপেশ দাস জানান, ‘সর্বোচ্চ ৩২০ গ্রাম ওজনের আপেল ফলেছে একটি গাছে। প্রত্যেকেই বাজারের আপেলের থেকে সুস্বাদু বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।’

apple farming

আপেল চাষ করলেন রূপেশ দাস

আপেল চাষে রূপেশের পরামর্শ

যাঁরা এভাবে বাড়িতে আপলে ফলাতে ইচ্ছুক তাঁদের উদ্দেশে রূপেশের পরামর্শ, আপেল গাছে জলসেচ নিয়মিতভাবে করতে হয়। গাছের গোড়া যাতে শুকিয়ে না যায় সেদিকেও নজর রাখতে হয়। পাশাপাশি গোড়ায় যাতে জল না জমে সেই বিষয়টিও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয়। তিনি আরও জানান, ‘কাশ্মিরে আপেল চাষিরা পিআরজি (প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেশন) স্প্রে করেন। ফলন বৃদ্ধিতে আমি এবার পরীক্ষামূলক স্প্রে করে দেখব।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই ফল ফুলের বাগানের শখ রয়েছে রূপেশের। আপেলের পাশাপাশি বাগানে রয়েছে পিচ, পার্সিমান (জাপানের জাতীয় ফল), আফ্রিকট মতো গাছও। আর এবার লাগাবেন ব্লু বেরি। গতবছর এই বাগানে জাফরান (কেশর) ফলিয়েছেন তিনি। রূপেশ জানান, ডুয়ার্স অঞ্চলে জাফরান চাষের খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি কোন সাহায্য পেলে তিনি দার্জিলিং লাগোয়া সমতল এলাকায় জাফরান চাষ করতে আগ্রহী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *