টিকিট পাওয়ার পরেও তাঁকে নিয়ে চর্চা এবং ট্রোলের শেষ নেই। এ সব দেখে আর শুনে দেবাংশুর সহাস্য উক্তি, ‘আমিই তো লোক ভাড়া করে রেখেছি এই ট্রোল করার জন্য। এ-ও তো এক ধরনের প্রচারই!’ প্রার্থিপদ ঘোষণার পর থেকেই তিনি তমলুকে পড়ে রয়েছেন। সিপিএমের প্রার্থী নিমতৌড়িতে যে পার্টি অফিসে থাকেন, তার ঠিক পাশে একটি নতুন বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছেন।
আর ‘পড়শি’কে খোঁচা দিয়ে বলছেন, ‘আমি শুধু সায়নকে বলব, নিজেদের ভোটটা ভাই নিজেরা পেয়ে দেখাও। কতবার আর বিজেপিকে হারাতে তৃণমূলকে আর তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে তোমাদের ভোটাররা ভোট দেবেন?’ দেবাংশুর চোখে শুভেন্দুর বিজেপিই এখানে মূল প্রতিপক্ষ। তবে প্রাক্তন বিচারপতিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ— ‘উনি প্রার্থী হয়ে সুবিধেই হয়েছে। উনি যে বিজেপির থেকে সুপারি নিয়ে হাইকোর্টে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষ এমন মুখোশধারী বিচারপতিকে চিনে নিয়েছেন।’
তবে এই জেলায় লড়াই কঠিন। তার চেয়েও কঠিন তমলুকের হাওয়ায় হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানো অবিশ্বাসের বাতাবরণ। কে যে তৃণমূল আর কে বিজেপি, তালগোল পেকে যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, এই জেলায় তৃণমূলকেও চালান শুভেন্দুই।
দেবাংশুর অবশ্য দাবি, ‘এটা শুভেন্দু আর তাঁর দলবলের তৈরি পারসেপশন। শুভেন্দুর আশেপাশে ঘোরা লোকজনই আমাকে ফোন করে তাঁর প্ল্যান ফাঁস করে দিচ্ছেন।’ জিতবেন? দেবাংশু দেখিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের প্রতি মানুষের আস্থাই তাঁকে এই কেন্দ্রে জিতিয়ে আনবে— প্রত্যয় এটাই।
