কলকাতার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ জন পরিষেবা কেন্দ্র থেকে হাসপাতাল, কলেজ, অফিস সবটাই কলকাতার এই প্রাণকেন্দ্রে। শিয়ালদা, বড়বাজার, থেকে শুরু করে কলেজ স্ট্রিট, ধর্মতলার মতো শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা এই কেন্দ্রের অন্তর্গত। আবার আরজিকর, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডির মতো নামী হাসপাতাল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেয়ার স্কুল, হিন্দু স্কুল, বেথুন কলেজ, স্কটিশ চার্চ সবটাই এই কেন্দ্রকে ঘিরে।
এই কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে অর্থাৎ চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র সবকয়টিতেই একাধিপত্য তৃণমূলের। শশী পাঁজা, অতীন ঘোষ, পরেশ পাল, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় সহ প্রথম সারির বিধায়কদের এলাকায় লড়বেন সুদীপ। ভালো মার্জিন আনার দায়িত্ব রয়েছে তাঁদেরও। দলের নিচুতলার অন্তর্কলহ, জন পরিষেবার কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ বাদ দিলে এই কেন্দ্র জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই নানা অসন্তোষ এবং দলে মতানৈক্যের কারণ দেখিয়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাপস রায়। উত্তর কলকাতার বিজেপির সংগঠনের উপরেই ভরসা করতে হবে তাপস রায়কে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ ভোটে জেতেন সুদীপ। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের শীর্ষ নেতা মহম্মদ সেলিম। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন তথাগত রায়। ২০১৪ সালে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ে বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করে রাহুল সিনহাকে। সুদীপ জেতেন ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৭ ব্যবধানে। ২০১৯ সালে একটু ব্যবধান কমে হয় ১ লাখ ২৭ হাজার। উত্তর কলকাতার বেশ কিছু অংশে অবাঙালি ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, শহর কলকাতায় উন্নততর নাগরিক পরিষেবা, জনহিতকর প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কাজের উপরেই আস্থা রাখছে শাসক দল। উত্তর কলকাতায় কি খেলা ঘোরাবেন তাপস রায় নাকি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, তার উত্তর মিলবে ৪ জুন।
