Anwarul Azim Anar Case : চার টুকরো করে সাংসদের মুণ্ডু ফেলা হয় শাসনে, এদিনও মিলল না দেহাংশ – bangladesh mp anwarul azim anar case information has emerged in investigation of detectives


এই সময়: পেশাদার খুনিদের মতোই সাংসদ খুনের ঘটনায় নিখুঁত পরিকল্পনা ছিল আমানুল্লাদের। ক্লোরোফর্ম, চপার, ট্রলি ব্যাগ, পলিথিনের প্যাকেট জোগাড় করাই শুধু নয়, সেই পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল কসাই জাহিরকে। সঙ্গে রাখা হয় কিলিং টিমের আরও তিনজনকে। যারা দেহ লোপাট করার বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন।এই ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন আরও একটা কারণে, সেটা হলো, দেহাংশ সরিয়ে ফেলার ফুলপ্রুফ প্ল্যান। ৫৬ বছর বয়সি আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহ মাংসের কিমার মতো টুকরো করার আগে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় মাথা। তারপর খুলি চার টুকরো করা হয়। এরপর দেহের চামড়া ছাড়িয়ে হাড়গুলো আলাদা করে দেন জাহির।

পেশায় মাংসের কারবারি হওয়ায় তার এই কাজ করতে কোনও অসুবিধে হয়নি বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। সোমবার এক তদন্তকারী বলেন, ‘এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু মাংসের ছোট ছোট কিমার মতো টুকরোগুলো ব্যাগ এবং প্যাকেটে ভরে সরানোর পাশাপাশি হাড়গুলো আলাদা জায়গায় ফেলার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, এর পিছনে কোনও পাকা মাথা কাজ করেছে। কারণ, খুনের তদন্তে মাংসের টুকরোর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হাড় উদ্ধার হওয়া। তাতে সাংসদের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচ করানো ফরেন্সিক পরীক্ষাতেই সম্ভব। দেহাংশ উদ্ধার হলেও এতদিনে তা পচে যাওয়ায় তা খুব একটা কাজে লাগবে বলে মনে হয় না।’

গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে এসেছে, সাংসদের মাংস কিমার আকারে কেটে তা সরানোর ভার ছিল অভিযুক্ত আমানুল্লা, ফয়জ়ল এবং জাহিরের কাধে। সেই কাজে তাদের সাহায্য করেন শিলাস্তিও। আর অন্যতম অভিযুক্ত মুস্তাফিজুরের দায়িত্ব ছিল হাড় এবং মাথা সরিয়ে ফেলা। যাতে তা কোনও ভাবে খুঁজে না পাওয়া যায়। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মুস্তাফিজুর সেগুলি ব্যাগে ভরে শাসনের দিকে গিয়ে সেখানেই ভেড়িতে ফেলে দেন।

এদিকে, রবিবার ভবানীভবনে জিহাদ হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। তাকে বাংলাদেশে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারেও ভাবা হচ্ছে বলে এদিন জানান বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুন অর রশিদ। পুলিশ সূত্রে খবর, জিহাদ ওই দেশের গোয়েন্দাদের জানায়, গত ১৩ মে বরাহনগরে বন্ধুর বাড়ি থেকে নিউটাউনের ওই বিলাসবহুল বাংলোয় এসেছিলেন সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার।

ঘরের বাইরে র‍্যাকে জুতো রেখে ফ্ল্যাটে ঢোকেন আজিম, আমানুল্লা ও ফয়জ়ল। সে সময়ে বাংলোর নীচে ছিলেন জাহির ও সিয়াম। ভিতরে ঢোকার মিনিট পাঁচেকে মধ্যে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে খুন করা হয় সাংসদকে। এরপর রান্নাঘরের সামনে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে আগেই রান্নাঘরের সামনে রাখা সিসিটিভির ক্যামেরা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। যাতে ছবি কোনও ভাবে বাইরে না আসতে পারে।

সোমবার দুপুরে জাহিরকে নিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সঞ্জীবা আবাসনের ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনার পুর্নর্নিমাণের চেষ্টা করেন। সঙ্গে গিয়েছিলেন সিআইডির একটি টিম এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা।

Anwarul Azim Anar Case : সেক্সটরশন প্ল্যান ফেল! তাই মার্ডার, আজই কলকাতায় বাংলাদেশের গোয়েন্দারা

জাহির জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, খুনের পরে একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে সাংসদের জুতো ও জামা কাপড় ফেলা হয় নিউ টাউন হাতিশালা লাগোয়া বাগজোলা খালের গাবতলা বাজারের কাছে। সেখান থেকে আরও দেড় কিলোমিটার দূরে কৃষ্ণমাটি ব্রিজের কাছে একটি বাঁশ বাগানের আড়ালে খালের জলে ফেলা হয় সাংসদের টুকরো টুকরো করা দেহের অংশ।

আর মাথার খুলি ফেলা হয় রাজারহাট-খড়িবাড়ি রোডে শাসনের কাছে একটি ভেড়িতে। আপাতত সাংসদের দেহের এই অংশগুলি খুঁজে বের করতেই মরিয়া দুই দেশের গোয়েন্দারা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *