Malda Engineer Missing,ইঞ্জিনিয়ার নিখোঁজ রহস্য, দায় ঠেলছে দুই থানার পুলিশ – malda engineer missing from uttar pradesh kanpur one month cross mystery still not solved


মানস রায়, মালদা
দায় এড়িয়েছে দুই রাজ্যের দুই থানা। একমাস পার হলেও উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে মালদার ইঞ্জিনিয়ার যুবকের নিখোঁজ রহস্যের জট এখনও কাটেনি। তিনি কি আদৌ বেঁচে রয়েছেন, না মরে গিয়েছেন, বুঝতেই পারছেন না বৃদ্ধ দম্পতি। পানিপথে ইন্ডিয়ান অয়েলে কর্মরত ইন্দ্রনীল ঝা গত ২০ এপ্রিল বাড়ি ফেরার পথে কানপুর থেকে নিখোঁজ হন। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ মালদার মানিকচকের বাড়িতে ফোন করে মা জয়শ্রীকে তিনি বলেন, ট্রেনে পাটনা হয়ে মালদায় যাওয়ার জন্য টোটো করে কানপুর রেল স্টেশনে যাচ্ছেন।ছেলে ট্রেনে ঠিকঠাক উঠল কিনা সেটা জানতে জয়শ্রীদেবী রাত ন’টা নাগাদ ফোন করেন ছেলেকে। মোবাইল বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ হয়নি। তারপর কেটে গিয়েছে একমাস। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে খুঁজে পেতে খড়কুটোর মতো একে ওকে আঁকড়ে ধরছেন ইন্দ্রনীলের বাবা-মা। তাতে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, ছেলের জন্য নিজেরাই গোয়েন্দাগিরি শুরু করবেন কিনা বুঝে উঠতে পারছেন না ইন্দ্রনীলের বাবা সাধন ঝা।

তিনি বলেন, ‘মানিকচক থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করার কয়েক দিন পরে ছেলের পাশবুক আপডেট করতে গিয়ে দেখি, নিখোঁজ হওয়ার পরেও ওর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চার হাজার টাকা গীতা দেবী নামে এক মহিলার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় ব্যাঙ্ক থেকে ওই মহিলার ঠিকানা ও ফোন নম্বর যোগাড় করে পৌঁছে যাই কানপুরের গঙ্গাঘাট থানার শুক্লাগঞ্জে। স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে গীতাদেবীর ছেলে গলু এবং রোহিতের সঙ্গে দেখা করি।

তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, গলুই ওইদিন নিজের টোটোতে করে ছেলেকে কানপুর রেল স্টেশনে না নিয়ে গিয়ে নিজেদের গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল। এর পর ছেলের ইউপিআই পাসওয়ার্ড হাতিয়ে গীতাদেবীর অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে। সঙ্গে থাকা মোবাইল ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় ওরা।’

তিনি বলেন, ‘ওদের খুঁজে পেতে ও কথা বলতে স্থানীয়রা খুব সাহায্য করেছিল। অভিযুক্ত দু’জনের ছবি তুলে গঙ্গাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করি। ছবি ও ঠিকানা হাতে পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় তুলে আনে। ওদের কাছ থেকেই ছেলের মোবাইল উদ্ধার হয়। পুলিশ সেটি আমার হাতে তুলে দেয়।’ মাত্র চার হাজার টাকার জন্য অপহরণ? সাধনবাবু বলেন, ‘গলু ও রোহিত আমাকে ও পুলিশকে বলেছে, টাকার প্রয়োজনে ওরা এটা করেছে। গল্পে গল্পে ইঞ্জিনিয়ার শুনে ওরা ভেবেছিল ইন্দ্রনীলের কাছে অনেক টাকা আছে। কিন্তু ওর অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু টাকা পেয়ে হতাশ হয়ে ওরা নাকি ওকে ছেড়ে দেয়। কানপুরের পুলিশ কেস রেজিস্ট্রার না করেই আমাকে ছেলের মোবাইল ফেরত দিয়েছে। এমনকী দু’দিন পরে অভিযুক্তদের ছেড়েও দেয়।’

কানপুরের গঙ্গাঘাট থানা এবং মালদার মানিকচক থানায় অভিযোগ হলেও ইন্দ্রনীলকে খুঁজে বের করার দায় একে অপরের দিকে দুই থানা ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ।মানিকচক থানার এক কর্তার বক্তব্য, ‘এখানে বসে যতটা সম্ভব আমরা পরিবারটিকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছি। ঘটনাটি কানপুরে হয়েছে। মূল তদন্ত ওদেরই করার কথা।’

উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি-বিহারে মালদার ৩ যুবকের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ, দুশ্চিন্তায় পরিবার

জেলা সিটু নেতা দেবজ্যোতি সিনহা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা আরও চমকপ্রদ। তিনি বলেন, ‘কানপুরের গঙ্গাঘাট থানার আইসি আমায় জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত তাঁদের জেরায় মুখ খোলেনি। মানিকচক থানার পুলিশ যদি ওদের রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাহলে হয়তো ভয়ে ওরা মুখ খুলতে পারে।

দেবজ্যোতি জানিয়েছেন, ‘কানপুরের প্রাক্তন সাংসদ সুভাষিনী আলির মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের পুলিশকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে।’ কিন্তু ইন্দ্রনীল কি বেঁচে আছে? এই প্রশ্নটাই বড় হয়ে ঘুরছে মালদায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *