শর্মিলার বিপুল জয়েও মুখ ফিরিয়েছে পুর এলাকাগুলো – lok sabha election results 2024 burdwan tmc candidate sharmila sarkar did not perform well municipality area


এই সময়, কাটোয়া ও কালনা: গতবারের চেয়ে জয়ের মার্জিন বেড়েছে অনেকটাই। ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শর্মিলা সরকার। কিন্তু, এই জয়েও কাঁটা হয়ে রয়েছে এই কেন্দ্রের তিনটি পুর এলাকার ফল। কাটোয়া, কালনা এবং দাঁইহাট তিনটি পুর এলাকাতেই পিছিয়ে থেকেছেন শর্মিলা।তিন পুরসভাতেই বিজেপির ফল তুলনামূলক ভালো। প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামাঞ্চলে কামাল করলেও শহরাঞ্চলে কেন পিছিয়ে থাকল তৃণমূল? এক্ষেত্রে সংগঠনিক দুর্বলতার মতো বিষয়ের সঙ্গে উঠে এসেছে পুর পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ। তার প্রভাব পড়েছে এই তিন পুর এলাকায়।

কালনা পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে এবার তৃণমূল পিছিয়ে থেকেছে ১২টি ওয়ার্ডে। শহরে তৃণমূলের থেকে বিজেপি এগিয়ে ৩০৯৪ ভোটে। এর মধ্যে রয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েলের ওয়ার্ডও। এর পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পুর পরিষেবা নিয়েও বাসিন্দাদের ক্ষোভ।

শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডে পানীয় জলের অভাবের সঙ্গে সাফাই, নিকাশি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এমন বিপুল জয়ের মাঝেও পুর এলাকার এই সব অভিযোগ প্রসঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, ‘মানুষের রায় মেনে নিতে হবে। নিজেদের ত্রুটি বিচ্যুতি খতিয়ে দেখতে হবে। আশা করি, সংশোধন করে নেওয়া যাবে।’

অন্য দিকে, একই হাল কাটোয়া, দাঁইহাটে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমান কেন্দ্রে তৃণমূল জিতলেও পিছিয়ে ছিল কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রায় দু’হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এবার প্রায় ১৩ হাজার ভোটে কাটোয়া থেকে লিড পেয়েছেন শর্মিলা। তবে এই লিডের সবটাই এসেছে গ্রামীণ কাটোয়ার কল্যাণে। শহরগুলোয় এবারও ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের।

গতবার কাটোয়া শহর থেকে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল প্রায় ৯ হাজার ভোটে। এবার তুলনায় ফল ভালো হলেও পিছিয়ে থাকতে হয়েছে এক হাজারের কিছু বেশি ভোটে। দাঁইহাট থেকে গতবার ২৯০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এবার সেই মার্জিন কমে হয়েছে প্রায় ২৫০০ ভোটে।

West Bengal Election Result: পুরসভার শোচনীয় ফল চিন্তা বাড়াল তৃণমূলের

কেন বারবার শহর থেকে পিছিয়ে থাকছে রাজ্যের শাসকদল? শহরের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই এর কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও সংগঠনকে চাঙা রাখার মতো নেতা নেই। জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দক্ষ সংগঠক কিন্তু, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রর পাশাপাশি গোটা জেলা দেখতে হয় তাঁকে। ফলে শহরগুলোর সংগঠনে তিনি নজর দিয়ে উঠতে পারেন না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। দাঁইহাটে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও বড় কারণ। সেটাও কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সব তত্ত্ব মানতে নারাজ রবীন্দ্রনাথ।

কাটোয়ার ফল নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিধানসভায় আমরা ভালো ফল করেছি। এর অন্যতম কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্প। সেই সঙ্গে আমরা সংগঠনকেও শক্তিশালী করতে পেরেছি।’ আর শহরে পিছিয়ে থাকা নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘শহরে ওপার বাংলার মানুষের বসবাস বেশি। তাঁরা অনেকেই বিজেপির কথায় ভুল বুঝছেন। তাই এই ফল।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *