Trinamool Congress,পুরসভার শোচনীয় ফল চিন্তা বাড়াল তৃণমূলের – trinamool party worried about deplorable municipality result in west bengal


এই সময়: উত্তরবঙ্গের গুটিকয়েক আসন বাদ দিলে দক্ষিণে কার্যত নিরঙ্কুশ জয় ঘরে তুলেছে তৃণমূল। নির্বাচনে বিপুল সাফল্য এলেও শহরাঞ্চলের ভোটারদের তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা শাসক দল তৃণমূলকে চিন্তায় রাখল। পুরসভার ফলে পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্রই এক ছবি। নিজেদের দখলে থাকা পুরসভায় পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরপ্রধান, উপ-পুরপ্রধান থেকে শুরু করে ধরাশায়ী হয়েছেন হেভিওয়েটরাও।শহরাঞ্চলে কেন এমন শোচনীয় হাল?
পর্যালোচনায় উঠে আসছে খারাপ পরিষেবা থেকে শুরু করে দুর্নীতি এমনকী, তোলাবাজির অভিযোগও। দলের নেতৃত্ব অবশ্য মানছেন, খামতি কোথাও একটা রয়েছে। আপাতত সেই খামতি পূরণই তাঁদের কাছে ‘প্রাইম টাস্ক’। উত্তর এবং দক্ষিণ- কলকাতার দু’টি আসনের পাশাপাশি বড় ব্যবধানে জয় এসেছে যাদবপুর কেন্দ্রেও। তার মধ্যেও শাসক দলকে চিন্তায় রাখছে ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফল। সেখানে বেশ কিছু আসনেই পিছিয়ে রয়েছেন শাসক দলের কাউন্সিলাররা।

এদের কেউ কেউ বিধায়ক, মায় মন্ত্রীও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩২টিতেই এগিয়ে ছিলেন ঘাসফুলের প্রার্থীরা। তথ্য অনুযায়ী, এবারে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৯টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এর মধ্যে ৪৫ জনই শাসক দলের কাউন্সিলার। রয়েছেন পাঁচ মেয়র পারিষদ সদস্যও। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও তৃণমূল ৫১টি ওয়ার্ডে বিজেপির তুলনায় কম ভোট পেয়েছিল।

কেন এমন ফল?
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, ‘বিধানসভা-লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আলাদা। পুর ভোটে এই ফল থাকবে না। তবে কেন এমন হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’ দক্ষিণ কলকাতার ৮৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এবারে ২১টিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে এরমধ্যে ৮১টি ওয়ার্ড দখলে রেখেছিল তারা। তবে স্বস্তির খবর একটাই, এখানে সবকটি বিধানসভাতেই শাসক দল এগিয়ে রয়েছে। কলকাতা উত্তরের ৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডে জোড়াফুল শিবির পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শ্যামপুকুর এবং জোড়াসাঁকো বিধানসভাতেও এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি।

খোদ কলকাতায় কেন এমন ফল?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, পরিষেবা একটা বড় কারণ। পানীয় জলের পাশাপাশি জঞ্জাল অপসারণ নিয়ে বেশ কিছু ওয়ার্ডে অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় জল জমার অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক কাউন্সিলার। এর পাশাপাশি শহর কলকাতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, দুর্নীতি। সাম্প্রতিক কালে শিক্ষা থেকে রেশন, দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার শহুরে ভোটারদের তৃণমূল-বিমুখ করেছে।

কলকাতার পাশাপাশি শহরতলিতেও খারাপ ফল চিন্তায় রেখেছে শাসক দলকে। বারাসত লোকসভার চারটি পুরসভাতেই তৃণমূলের ফল শোচনীয়। বারাসত পুরসভার ৩৫ টি ওয়ার্ডের মধ্যে শাসক দল এগিয়ে মাত্র ৬টি ওয়ার্ডে। অশোকনগর পুরসভাতেও ২৩ টির মধ্যে মাত্র ৬টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী, জেলবন্দি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কেন্দ্র হাবড়া পুরসভায় সবকটি কেন্দ্রেই পিছিয়ে তৃণমূল। একমাত্র মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে বিজেপির থেকে এগিয়ে রয়েছে জোড়াফুল।

West Bengal Political News : বহু বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেল লোকসভার রেজাল্টে

বনগাঁ পুরসভায় ২২টির সবকটিতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। এখানকার প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যও রেশন দুর্নীতিতে জেল বন্দি। এখানে এটাই ভরাডুবির মূল কারণ বলে ধারণা শাসক দলের নেতাদের। গোবরডাঙ্গা পুরসভার ১৭ টির মধ্যে ১৫টিতেই পিছিয়ে তৃণমূল। দুর্নীতির পাশাপাশি পুর পরিষেবাও এর পিছনে বড় কারণ বলে মনে করছে শাসক দল। পূর্ব বর্ধমান কেন্দ্রে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী শর্মিলা সরকার জয়ী হলেও সেখানে কাঁটা হয়ে রয়েছে এই কেন্দ্রের তিনটি পুর এলাকার ফল।

কাটোয়া, কালনা এবং দাঁইহাট তিনটি পুর এলাকাতেই পিছিয়ে থেকেছেন শর্মিলা। এক্ষেত্রে সংগঠনিক দুর্বলতার মতো বিষয়ের সঙ্গে উঠে এসেছে পুর পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ। এরই পাশাপাশি জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম হোক বা উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্র। সর্বত্র ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। এখানে পিছিয়ে পড়ার কারণ, পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের অসন্তোষ বলেও মত বাসিন্দাদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *