লক্ষ্য ছিল মতুয়াদের সমর্থন ধরে রাখা। একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছিল মতুয়াদের আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে ফের একবার বনগাঁ লোকসভা জয়। আর সেই চ্যালেঞ্জ জিতেও গিয়েছেন তিনি। আরও একবার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। ৭ লাখ ১৯ হাজার ৫০৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। রাজ্যে অনেক জেতা লোকসভা আসন যখন বিজেপির হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, সেই সময় নিজের গড় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন শান্তনু। এমনকী মন্ত্রী পদে থাকা নিশীথ প্রামাণিক বা সুভাষ সরকারের মতো দাপুটে সাংসদরা যখন নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারেননি, সেই সময় নিজের বিজয় রথ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। আর সেই জয়ের পুরস্কারও মিলল। ফের একবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলেন শান্তনু ঠাকুর। রাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে বিগত কয়েক বছর ধরেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত বনগাঁর ঠাকুর বাড়ি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় তা আরও প্রকাশ্যে চলে আসে। ঠাকুর পরিবারেরই অপর সদস্য তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইতে নামেন শান্তনু ঠাকুর। আর প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইতে নেমেই করেন বাজিমাত। ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে মন্ত্রীও করে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী করা হয় তাঁকে।

২০২৪ সালে ফের একবার তাঁর ওপরেই ভরসা রাখে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বনগাঁ আসন ধরে রাখার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় তাঁর কাঁধেই। আর সেই দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, মোদী-শাহদের গুডবুকে আরও অনেকটা নম্বর বাড়িয়ে নেন শান্তনু।

এবারের নির্বাচনে অবশ্য প্রথম থেকেই রাজনৈতিকমহলের বিশেষ নজর ছিল বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের দিকে। মতুয়া সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্ব সংক্রান্ত দাবিদাওয়া ছিল। আর এবারের ভোটের আগে দেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ লাগু করে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই সিএএ-র বিরোধিতা করে এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিকমহল মনে করছে এতকিছুর পরেও বনগাঁর ভোটে এবার বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে সিএএ। আর তারই সুফল হয়ত ভোটবাক্সে পেয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে জয়ী হন তিনি। আর জয়ের পরেই নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয়বারের জন্য জায়গা করে নিলেন বনগাঁর ঠাকুর পরিবারের এই সদস্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *