টানা তিন দিন এমনিতেই চূড়ান্ত হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে শিয়ালদা মেন ও বনগাঁ শাখার যাত্রীদের। রবিবার নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা আগেই ১ থেকে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাজ শেষ হয়ে যায় বলে ঘোষণা করে রেল। ফলত, রবিবার ছুটির দিন থাকলেও সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, এমনটাই আশা করেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু, সোমবারও দেখা গেল একইরকমের ভোগান্তির চিত্র। সকাল থেকে রাত শিয়ালদা বনগাঁ, মেন শাখার যাত্রীদের কার্যত গলদঘর্ম অবস্থা হল একাধিক ট্রেন দেরিতে চলার জন্য।
সোমবার সকাল থেকেই অবশ্য ট্রেন দেরিতে চলার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন যাত্রীরা। সকাল থেকেই বেশ কিছু ট্রেন ২৫ থেকে ৩০ মিনিট অধিক দেরিতে চলছে বলে অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নাম এক যাত্রী জানান, ১১.০৭-এর ট্রেন তিনি ১১.৩৩-এ পেয়েছেন। সোমবার থেকে রেল পরিষেবা শিয়ালদা থেকে অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও আশাহত হন যাত্রীরা। রাতেও চিত্রটা বদল হল না, উলটে দুর্ভোগ বাড়ল যাত্রীদের।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকে শিয়ালদা ১ থেকে ৫ নম্বর স্টেশনে পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ করা হচ্ছিল। ৯ বগির ট্রেনের জায়গায় ১২ বগির ট্রেন চালু করার জন্যেই প্ল্যাটফর্মগুলিতের কাজ করা হয় প্রায় আড়াই দিন ধরে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত একাধিক ট্রেন বাতিল, একাদিক ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে দেওয়ার জন্য, এমনকি ট্রেনের ঘোষণা ঠিকঠাক না হওয়ার জন্য ভোগান্তি সহ্য করতে হয় যাত্রীদের। ঠাসা ভিড় হয় একেকটি ট্রেনে। শুক্রবার ভিড়ের চাপে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হয় এক যুবকের।
