স্কুলের এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের প্রধান শিক্ষকদের সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘স্কুলগুলিকে গুরত্ব দিয়ে আগামিদিনে কুলারের পাশাপাশি এসি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে ক্লাসে। যে সময়ে গরম পড়ে সেই সময়ে গরমের ছুটি দিতে হবে। এ ভাবে করতে পারলে তবেই শিক্ষার মান বাড়বে।’
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার দিঘিরপাড় বকুলতলা প্রাইমারি স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় আড়াইশো। প্রান্তিক মৎস্যজীবী, খেতমজুর ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানরা এই স্কুলে পড়াশোনা করে। গরমের কথা মাথায় রেখে একটি হলঘরের মধ্যে সমস্ত ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা আলাদা ভাবে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই হলঘরের সমস্ত জানলা এবং দরজা বন্ধ রেখে সবকটি সিলিং ফ্যান চালু রেখে এয়ারকুলার চালালে বেশ ঠান্ডা হচ্ছে। ফলে স্কুলে আসতে আর অনীহা নেই পড়ুয়াদের।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিল সামন্ত বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই কুলার ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বসানো হয়েছে। শিক্ষকদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় এই কুলার বসানো হয়েছে। আমরা চাই ছাত্রছাত্রীরা ভালো ভাবে পড়াশোনা করুক। গরম যেন তাদের পড়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়। এই গরমে তারা যেন সুস্থ থাকতে পারে।’
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে কোথাও তাপপ্রবাহ, কোথাও চরম আর্দ্রতার জেরে স্কুলে আসতে পারছে না বহু পড়ুয়া। একই চিত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামে গ্রামে। প্রচণ্ড গরমে স্কুলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাঁদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কথা ভেবে রাজ্য সরকার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, জুন মাসের বাকি দিনগুলিতে চাইলে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলিকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোথায়, কত তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি কেমন— তা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্কুলকে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পঠনপাঠন এবং সিলেবাসের পিছিয়ে পড়ার কথা ভেবে নতুন করে আর ছুটি দিতে চাইছেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেখানে গরমে যাতে ছোটদের পড়াশোনা করতে কষ্ট না হয়, তা ভেবে স্কুলে শিক্ষকদের নিজেদের টাকায় এয়ারকুলার লাগানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন সকলেই।
