হাইকোর্টে বিচারপতি পদে তিন রকম ভাবে নিয়োগ হয়। লোয়ার জুডিশিয়ারি ও হায়ার জুডিশিয়ারি থেকে প্রোমোশন পেয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি হতে পারেন ২৪ জন। আর বাকি ৪৮টি পদে সরাসরি বার থেকে আইনজীবীদের নাম সুপারিশ করে কলেজিয়াম। নিম্ন আদালত থেকে প্রোমোশন পেয়ে বিচারপতি হওয়ার সব পদই প্রায় ভর্তি। বছর বছর নিয়োগ হয়।
কিন্তু গত ছ’বছর ধরে আইনজীবী থেকে বিচারপতি পদের জন্যে নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকোর্টের গড়িমসি নিয়েও বিরক্ত বর্ষীয়ান আইনজীবীরা। আবার যে সব নাম হাইকোর্ট সুপারিশ করেছিল আগে, তার বড় অংশ ছাড়পত্র পায়নি সুপ্রিম কোর্টের। আবার সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্রে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্র ঠান্ডা ঘরে ফেলে রেখেছে নাম। বর্ষীয়ান আইনজীবীরা মনে করাচ্ছেন, ২০১৮-র ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টের পাঠানো ন’টি নামের থেকে ২টি নাম সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে পাঠালেও এখনও ফাইল চাপা আইনমন্ত্রকে।
তারও আগে হাইকোর্ট এমন অন্তত দু’জন আইনজীবীর নাম তিন বার করে পাঠিয়েছিল, যে নামে কেন্দ্র ছাড়পত্র না দিয়ে বার বার ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী থেকে বিচারপতি পদে নিয়োগ নিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ বহু দিনের। এই অবস্থায় যে ৮ জনের নাম সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে, তাঁরা ১৯৯৩ থেকে ২০০৩-এর মধ্যে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।
হাইকোর্ট সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এবং সদ্য অবসর নেওয়া বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসকে নিয়ে গড়া তিন সদস্যের কলেজিয়াম প্রাথমিক ভাবে জমা পড়া ২৫টি নামের মধ্যে দক্ষতা, যোগ্যতা, পেশা থেকে আয়, আচার-আচরণ, মর্যাদা, সুনাম বিবেচনা করে ১৬ জনকে বেছে নিয়েছিল।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মতো প্রথম দফায় ৮ জনের নাম পাঠানো হয়। এখন কত জনের নাম চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবে, পেলে কত দিনে–তা নিয়ে জল্পনা চরমে।
