Dr Anirban Datta Case : চিকিৎসকের রহস্য মৃত্যুতে ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রাক্তন স্ত্রীর – doctor anirban dutta ex wife filed an fir against 11 people


এই সময়, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অনির্বাণ দত্তের রহস্যমৃত্যুতে খুনের অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করলেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী শর্মি চট্টোপাধ্যায়। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে বহরমপুরে এসে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। অনির্বাণের বর্তমান স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হোমিয়ো চিকিৎসক-সহ মোট ১১ জনের নামে খুন, ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তদন্তও শুরু করে বহরমপুর থানার পুলিশ। এ দিন দুপুরে বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকায় প্রয়াত চিকিৎসকের শ্বশুরবাড়িতে যান তদন্তকারী পুলিশ অফিসারেরা। সেখানে তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্বশুর শান্তব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাশুড়ি কাকলি বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা।

ডা. অনির্বাণ দত্তের মৃত্যুর পরে তাঁকে প্রথমে যে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানকার আরএমও-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। করোনা-কালে গান গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়া চিকিৎসক অনির্বাণ দত্তের মৃতদেহ গত ২৫ জুন বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এলাকার হোমিয়ো চিকিৎসক বিভাস কুণ্ডুর দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ কার্ডিয়াক ফেলিওর লেখা হয়।

চিকিৎসকের প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তাঁদের পুত্রসন্তানকে শেষকৃত্যের সুযোগটুকু না দিয়েই তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। এর পরেই পুলিশ অনির্বাণের শ্বশুরবাড়িতে তদন্তে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গত ২৪ জুন দুপুর দেড়টার সময় বহরমপুরের একটি হোটেলে অনির্বাণ দত্ত ঢোকেন। দুপুর দেড়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার বোতল মদ্যপান করেন তিনি।

রাত ১০টা নাগাদ তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে হোটেল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। এর পরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ অর্চিতা ঘুমোতে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তার আগে পর্যন্ত অনির্বাণ জেগেই ছিলেন। এর পরে সকালে ঘুম ভেঙে স্বামীকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন অর্চিতা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে এনে এলাকার হোমিয়ো চিকিৎসক বিভাস কুণ্ডুর কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়। এর পরে খাগড়া শ্মশানে দেহ সৎকার করে দেওয়া হয় তাঁর।

‘যা ভালো মনে হয়েছে করেছি’, ডা. অনির্বাণ দত্তের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুললেন শ্বশুর

অনির্বাণের প্রাক্তন স্ত্রী এবং ছেলে শেষ দেখা দেখতে না পেয়ে বুধবার খুনের অভিযোগ তুলে বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শর্মি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই আমি মুখ খুলব না।’

ঘটনার পরেই রাজ্যের একাধিক চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। এ বার এফআইআর দায়ের করলেন প্রাক্তন স্ত্রী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *