ডা. অনির্বাণ দত্তের মৃত্যুর পরে তাঁকে প্রথমে যে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানকার আরএমও-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। করোনা-কালে গান গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়া চিকিৎসক অনির্বাণ দত্তের মৃতদেহ গত ২৫ জুন বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এলাকার হোমিয়ো চিকিৎসক বিভাস কুণ্ডুর দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ কার্ডিয়াক ফেলিওর লেখা হয়।
চিকিৎসকের প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তাঁদের পুত্রসন্তানকে শেষকৃত্যের সুযোগটুকু না দিয়েই তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। এর পরেই পুলিশ অনির্বাণের শ্বশুরবাড়িতে তদন্তে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গত ২৪ জুন দুপুর দেড়টার সময় বহরমপুরের একটি হোটেলে অনির্বাণ দত্ত ঢোকেন। দুপুর দেড়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার বোতল মদ্যপান করেন তিনি।
রাত ১০টা নাগাদ তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে হোটেল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। এর পরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ অর্চিতা ঘুমোতে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তার আগে পর্যন্ত অনির্বাণ জেগেই ছিলেন। এর পরে সকালে ঘুম ভেঙে স্বামীকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন অর্চিতা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে এনে এলাকার হোমিয়ো চিকিৎসক বিভাস কুণ্ডুর কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়। এর পরে খাগড়া শ্মশানে দেহ সৎকার করে দেওয়া হয় তাঁর।
অনির্বাণের প্রাক্তন স্ত্রী এবং ছেলে শেষ দেখা দেখতে না পেয়ে বুধবার খুনের অভিযোগ তুলে বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শর্মি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই আমি মুখ খুলব না।’
ঘটনার পরেই রাজ্যের একাধিক চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। এ বার এফআইআর দায়ের করলেন প্রাক্তন স্ত্রী।
