স্ত্রীকে রহস্যজনক মেসেজ করেই ‘নিখোঁজ’ মধ্যমগ্রামের ব্যবসায়ী, তদন্তে পুলিশ – madhyamgram businessman is missing police starts investigation


ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার পর রহস্যজনক মেসেজ! তা নিয়েই তোলপাড় মধ্যমগ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই বড়বাজারে ব্যবসার কাজে যান মধ্যমগ্রাম পুরসভার বাসিন্দা কৌস্তভ মিত্র। কিন্তু, বিকেলে তাঁর স্ত্রীর ফোনে একটি মেসেজ আসে। সেখানেই লেখা, তিনি তোলাবাজির শিকার। তাঁকে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন তপন দাস ও রাজদীপ নামে এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, এই মেসেজের পর তাঁকে জীবিত দেখা নাও যেতে পারে বলে বলেন কৌস্তভ। মেসেজটি পাওয়ার পরেই তাঁকে ফোন করেন পরিবারের সদস্য়রা। কিন্তু, কৌস্তুভকে ফোনে পাওয়া যায়নি।এরপরেই তাঁর খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। কিন্তু, পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনও খোঁজ পাননি। এরপর মধ্যমগ্রাম থানায় এই বিষয়টি জানানো হয়। যেহেতু অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি গায়েব হয়েছিলেন, তাই সেই এলাকার থানায় পরিবারকে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কৌস্তভের পরিবারের তরফে মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কৌস্তভ এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করতেন। তাঁর সেই সঙ্গী পুলিশকে জানান, দুপুর দেড়টা নাগাদ অফিসে আসেন কৌস্তভ। এরপর পৌনে তিনটে নাগাদ তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে যান। অফিসের পাশের একটি সিসিভিটি ফুজেট পরিবারকে দেখানো হয়, সেখানে কৌস্তভকে দেখা যায়নি।

কৌস্তভ শেষ কাকে ফোন করেছিলেন? শেষ মেসেজই বা কোন নম্বরে গিয়েছিল? এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাঁর মোবাইলের লোকেশনও ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রশ্ন উঠছে, মেসেজে উল্লেখ করা কে এই তপন দাস এবং রাজদীপ? কৌস্তভের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাঁদের মধ্যে তপন দাসকে ফোন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের কোনও বিষয় আলোচনা তাঁর সঙ্গে হয়নি। তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি আরও দাবি করেছেন, কৌস্তভ তাঁকে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৭০ লাখ টাকা লোন করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি তা রাখেননি।

কৌস্তভ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নাওয়া খাওয়া ভুলেছে পরিবার। পুলিশ দ্রুত নিখোঁজ কৌস্তভকে উদ্ধার করুক, এমনটাই চাইছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, ওই মেসেজ কি আদৌ কৌস্তভের করা? তাঁর ফোন বন্ধ হওয়ার আগে শেষ ‘লোকেশন’ কোথায় ছিল? তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *